বগুড়ায় ৪০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার, স্বামী পলাতক
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
বগুড়ার নিশিন্দারা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক নারীকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। তবে অভিযানের সময় তার স্বামী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রোববার (৭ জুন) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়া সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিশিন্দারা মন্ডলপাড়া এলাকায় একটি বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় বগুড়ার বিশেষ দল।
গ্রেফতার হওয়া নারী মোছা. ছালেহা আক্তার (৪০)। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার স্বামী মো. আব্দুস সোবাহানের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযানের সময় তাদের চার কক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা বাড়ির বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের মাধ্যমে ওই বাড়িতে বিক্রির উদ্দেশ্যে ইয়াবার একটি চালান মজুত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ছালেহা আক্তারের স্বামী আব্দুস সোবাহান (৪৫) পালিয়ে যান।
বর্তমানে গ্রেফতার ছালেহা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস, সরবরাহকারী এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে পলাতক আব্দুস সোবাহানকে আটকের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সম্প্রতি বগুড়া শহর ও আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ইয়াবা, গাঁজা এবং অন্যান্য মাদকের অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. সামসুল আলম বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ছালেহা আক্তারকে এক নম্বর এবং পলাতক আব্দুস সোবাহানকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার চালানের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, সমাজকে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রক্ষা করতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ী, পরিবহনকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।