স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে পালাচ্ছিলেন বিদেশে, ধরা খেলেন ইমিগ্রেশনে
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে স্ত্রীকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে বিদেশে পালানোর চেষ্টার অভিযোগে মিরাজুল ইসলাম রাসেলকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে কালিয়াকৈর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, কালিয়াকৈরের বাসিন্দা মিরাজুল ইসলাম রাসেল প্রায় ১০ বছর আগে সম্পা আক্তার আরিফাকে বিয়ে করেন। কর্মসূত্রে সিঙ্গাপুরে থাকলেও তিনি অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন। প্রায় এক মাস আগে ছুটিতে দেশে ফেরার পরও তিনি জুয়া খেলা চালিয়ে যান। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহের একপর্যায়ে স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে শনিবার ভোরে কালিয়াকৈরের সফিপুর আহম্মদ নগর চৌরাস্তা এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে আরিফার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, অনলাইন জুয়া খেলায় বাধা দেওয়ায় আরিফার ওপর দীর্ঘদিন ধরেই নির্যাতন চালাতেন রাসেল। শুক্রবার রাতে একই বিষয় নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। এতে আরিফার মৃত্যু হলে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে দেখানোর জন্য মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলে রাসেল সিঙ্গাপুরে পালানোর চেষ্টা করেন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সহিদুল ইসলাম জানান, আসামির বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আগেই ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে তার বিদেশযাত্রা বন্ধের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। রোববার তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার চেষ্টা করলে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল অনলাইন জুয়ায় আসক্তি এবং স্ত্রীর ওপর নির্যাতনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। বর্তমানে মামলাটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার ধারায় রয়েছে। তবে তদন্তে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলা দায়েরের পর প্রযুক্তির সহায়তায় রাসেলের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছিল। রোববার দুপুরে তার অবস্থান বিমানবন্দর এলাকায় নিশ্চিত হওয়ার পর ইমিগ্রেশন পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে তাকে আটক করা হয়।
মামলার বাদী ও নিহত আরিফার বাবা মো. অহিদুজ্জামান অভিযোগ করেন, অনলাইন জুয়া খেলতে বাধা দেওয়াতেই তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাসেলের পরিবারের অন্য সদস্যদেরও সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে তার সন্দেহ। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানান।
স্বজনদের ভাষ্য, দম্পতির পাঁচ বছর বয়সী জায়ান নামে একটি ছেলে রয়েছে। বাবার অনলাইন জুয়ার আসক্তির কারণে সে অল্প বয়সেই মাকে হারিয়েছে। তাদের দাবি, রাসেলের আরও প্রায় এক মাস ছুটি বাকি থাকলেও ঘটনাটি ঘটানোর পর দ্রুত সিঙ্গাপুরে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।