‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে’, মাদ্রাসাশিক্ষকের এ কেমন কাণ্ড!

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি মাদ্রাসার শিশুশিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে নির্যাতনের একটি ভিডিও নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন অভিযুক্ত শিক্ষক। ভিডিওটির শিরোনামে তিনি লেখেন, ‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে’, যা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

জানা গেছে, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়ন পরিষদের বাংলাবাজার এলাকার একটি মাদ্রাসায় ঘটনাটি ঘটে। তবে গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

অভিযুক্ত ইমরান হোসেন ওই মাদ্রাসার সাবেক সহকারী শিক্ষক। তার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায়। সমালোচনার মুখে শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারে এসে তিনি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সবার কাছে ক্ষমা চান। একই সঙ্গে ভিডিওটি তিনিই ধারণ ও প্রকাশ করেছিলেন বলে স্বীকার করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়পুরের হায়দরগঞ্জ টিআরএম কামিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মঞ্জুর আলম পরিচালিত মাদ্রাসাটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় চার মাস আগে ইমরান হোসেনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের ধারণা, চাকরিতে থাকা অবস্থায়ই ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কান্নারত এক শিশুশিক্ষার্থীর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আতঙ্কে ও যন্ত্রণায় শিশুটি আরও জোরে কান্না শুরু করলে সে হাত দিয়ে বেত সরানোর চেষ্টা করে। তবে শিক্ষক তা থামাননি। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক সেটি মুছে ফেলেন এবং নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টও বন্ধ করে দেন।

যদিও সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় ইমরান হোসেন দাবি করেন, শিশুটি পরীক্ষার সময় প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে কান্না শুরু করেছিল। তাকে শান্ত করার উদ্দেশ্যেই তিনি দুষ্টামি করে মুখে লাঠি ধরেছিলেন। তিনি বলেন, শিশুটিকে মারধর বা বকাঝকা করেননি এবং বিষয়টি এত বড় বিতর্ক সৃষ্টি করবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি। নিজের ভুল স্বীকার করে তিনি সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

মাদ্রাসার সভাপতি মো. মঞ্জুর আহমেদ জানান, প্রায় তিন মাস আগে ইমরান হোসেনকে প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। চাকরি হারানোর পর তিনি আগে ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন।

তিনি আরও বলেন, ইমরান হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও নির্মাণে সক্রিয় ছিলেন। শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই তার আচরণ নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, অকারণে শাস্তি দেওয়া এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করায় তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ খোঁজখবর নিয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষককে কয়েক মাস আগেই মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি রায়পুরে অবস্থান করছেন না এবং সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাটিও বন্ধ রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970