কুড়িগ্রামে বাতিল লাইসেন্সে নিকাহ রেজিস্ট্রি: বিয়েতে আইনি জটিলতার আশঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৪৯ এএম
কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নে বাতিল লাইসেন্স ব্যবহার করে অবৈধভাবে নিকাহ রেজিস্ট্রি কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে সাবেক নিকাহ রেজিস্ট্রার মাওলানা ফয়েজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত ১০ নভেম্বর জেলা রেজিস্ট্রার মো. রুহুল কুদ্দুস স্বাক্ষরিত একটি সতর্কতামূলক নোটিশ জারি করা হয়।
সরকারি নথি অনুযায়ী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০০৬ সালের ১২ অক্টোবরের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফয়েজ উদ্দিনের নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স বাতিল করা হয় এবং তার স্থানে হোসাইন আহমেদকে নতুন নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই থেকে হোসাইন আহমেদ নিয়মিতভাবে ইউনিয়নে নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, লাইসেন্স বাতিলের পরও ফয়েজ উদ্দিন নিজেকে নিকাহ রেজিস্ট্রার পরিচয় দিয়ে এখনও বিভিন্ন এলাকায় বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তার ছেলে আমীর হোসেন মামুনও ভুয়া বইপত্র তৈরি করে অবৈধভাবে নিকাহ নিবন্ধনের কাজে জড়িত-এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে।
এ অবস্থায় জেলা রেজিস্ট্রারের নোটিশে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, “আপনার নামীয় নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্সটি বাতিল করা হয়েছে। বাতিল লাইসেন্সের ভিত্তিতে নিকাহ রেজিস্ট্রি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বেআইনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো কার্যক্রম না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হলো।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা ফয়েজ উদ্দিন জানান, “এ ঘটনায় আদালতে রিট করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে আমি কাজ করার অনুমতি পেয়েছি।”
তবে তার দাবি সম্পর্কে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তারা জানায়, সরকারি নথি অনুযায়ী তার লাইসেন্স বাতিলই বহাল রয়েছে এবং তিনি কোনো বিয়ে বা তালাক নিবন্ধনের কাজ পরিচালনা করতে পারবেন না।
স্থানীয় এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এভাবে অবৈধ নিকাহ রেজিস্ট্রি চালিয়ে গেলে ভবিষ্যতে বহু পরিবার আইনি জটিলতায় পড়তে পারে। বিয়ে বৈধতা হারালে দাম্পত্য সম্পর্ক, সন্তানদের বৈধতা এবং সম্পত্তি বণ্টনসহ নানা বিষয়ে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান নিকাহ রেজিস্ট্রার একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, একই সঙ্গে নিকাহ রেজিস্ট্রি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।