মিশর কোচের হাতের ‘এক্স’ আকৃতি কীসের ইঙ্গিত, কী আছে ফিফার আইনে?
খেলাধুলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিতর্কিত রেফারিংয়ের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে দুই হাত ক্রস করে বিশেষ একটি সংকেত দেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তার এই অঙ্গভঙ্গি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী এই সংকেতের একটি নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে।
আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেয় মিশর। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শেষ দিকে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে মিশরের কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে হলুদ কার্ড দেখান। যোগ করা সময়ের ৯৪তম মিনিটে কোচিং স্টাফের এক সদস্য লাল কার্ডও দেখেন। এর আগে ভিডিও সহকারী রেফারির একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত মিশরের বিপক্ষে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সমর্থক ম্যাচটি নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগও তোলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিরর ইউএস-এর প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়, ওই সিদ্ধান্ত মিশরের সম্ভাব্য জয় কেড়ে নিতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে রেফারির সামনে দাঁড়িয়ে দুই হাত ক্রস করে ইংরেজি ‘এক্স’ অক্ষরের মতো একটি সংকেত দেন হোসাম হাসান। তবে রেফারি তার এই ইঙ্গিতের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি।
ফিফার সার্বজনীন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড়, কোচ বা দলের কর্মকর্তা দুই হাত ক্রস করে ‘এক্স’ চিহ্ন তৈরি করলে সেটি ম্যাচ চলাকালে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ জানানোর আনুষ্ঠানিক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়। এমন সংকেত গ্রহণ করলে রেফারিকে তিন ধাপের একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। প্রথমে খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ম্যাচ স্থগিত করা হয় এবং বর্ণবাদী আচরণ অব্যাহত থাকলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ পরিত্যক্তও ঘোষণা করা যেতে পারে।
তবে এই ম্যাচে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে হোসাম হাসানকেই হলুদ কার্ড দেখানো হয়। কেন তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তাফা জিকো গোল করে মিশরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিয়েছেন বলে মনে হচ্ছিল। মোহাম্মদ সালাহর সঙ্গে দারুণ সমন্বয়ে তিনি বল জালে পাঠালেও পরে ভিডিও সহকারী রেফারির পরামর্শে রেফারি মাঠের পাশের পর্দায় রিপ্লে দেখে গোলটি বাতিল করেন। তার সিদ্ধান্তে বলা হয়, গোল হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে মিশরের এক খেলোয়াড় অবৈধভাবে ফাউল করেছিলেন।
যদিও মাত্র ছয় মিনিট পর জিকো আবারও বৈধভাবে গোল করেন, তবুও বিতর্ক থামেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সমর্থক অভিযোগ করেন, আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দিতেই পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একজন সমর্থক লেখেন, “এই টুর্নামেন্ট পুরোপুরি সাজানো। মিশরের বৈধ গোল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।” আরেকজন মন্তব্য করেন, “সব সময়ের মতোই ম্যাচটি পাতানো ছিল।”
বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভে মিশরীয় ফুটবল বিশ্লেষক আহমাদ ইউসেফ বলেন, ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্তে ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে। কতটা পেছনের ঘটনা পর্যালোচনা করা হবে, সেটিও স্পষ্ট নয়। তার মতে, জিকোর বাতিল হওয়া গোলের সিদ্ধান্ত ছিল ভুল এবং এত আগের সামান্য একটি ফাউলকে ভিত্তি করে গোল বাতিল করায় মিশরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের হতাশা স্বাভাবিক।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, একই ধরনের ঘটনা যদি লিওনেল মেসি বা আর্জেন্টিনার অন্য কোনো খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে ঘটত, তাহলে কি একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো?
এরপর জিকোর গোলের পরপরই লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে ফেরান। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের হেডে জয়সূচক গোল হলে নাটকীয় ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা।