ব্যাংক রেজুলেশন বিল পাস: একীভূত পাঁচ ব্যাংক যাচ্ছে আগের মালিকদের হাতে
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
জাতীয় সংসদে ‘ব্যাংক রেজুলেশন বিল, ২০২৬’ পাস হওয়ায় একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের মালিকানায় আগের শেয়ারধারীদের ফেরার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। এর ফলে বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ ও নাসা গ্রুপের ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
আগে জারি করা অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক বিপর্যয়ের জন্য দায়ী ব্যক্তিরা অর্থ ফেরত দিলেও তাদের মালিকানায় ফেরার সুযোগ ছিল না। তবে নতুন আইনে সেই বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হয়েছে।
নতুন আইনের বিধান অনুযায়ী, কোনো তফসিলি ব্যাংক রেজুলেশন প্রক্রিয়ায় গেলে আগের শেয়ারধারক বা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় উপযুক্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পুনরায় ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় গ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিস্তারিত অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। এতে সরকারের দেওয়া আর্থিক সহায়তা ফেরত, নতুন মূলধন জোগান, মূলধন ঘাটতি পূরণ এবং আমানতকারী ও পাওনাদারের দায় পরিশোধের প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে।
এছাড়া কর, রাজস্ব ও ক্ষতিপূরণসহ সব আর্থিক দায় পরিশোধের অঙ্গীকার এবং ব্যাংকের সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারের পরিকল্পনাও উপস্থাপন করতে হবে।
আইন অনুযায়ী, আবেদন অনুমোদনের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক যাচাই-বাছাই করে সরকারের অনুমোদন নেবে। অনুমোদনের পর মালিকানা ফিরে পেতে হলে সরকারের বিনিয়োগ করা অর্থের অন্তত ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ আগে জমা দিতে হবে এবং বাকি অর্থ দুই বছরের মধ্যে সুদসহ পরিশোধ করতে হবে।
নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক পুনর্গঠিত ব্যাংকের কার্যক্রম দুই বছর তদারকি করবে। এ সময় শেষে শর্ত পূরণ হয়েছে কি না তা যাচাই করে প্রয়োজনে অনুমতি বাতিলের সুপারিশ করা হবে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা এই বিধান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, শর্ত পূরণের আগে শুধুমাত্র অঙ্গীকারের ভিত্তিতে মালিকানা ফেরত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এতে আমানতকারীদের অর্থ নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে পারে এবং দায়ী ব্যক্তিরা সহজে পার পেয়ে যেতে পারেন।
অর্থনীতিবিদদেরও একই ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। তাদের মতে, যেসব ব্যক্তি অনিয়মিত ঋণ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যাংক খাতকে দুর্বল করেছে, তাদেরই আবার ফেরার সুযোগ দেওয়া জবাবদিহির জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে।
এদিকে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বিলটির বিরোধিতা করে বলেন, এতে আমানতকারীদের সুরক্ষা হুমকির মুখে পড়বে। অতীতে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ দিয়ে ব্যাংক রক্ষা করা হয়েছে, তাই দায়ীদের ছাড় দেওয়া উচিত নয়।
তবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি জানান, ইতোমধ্যে সরকার বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হতে পারে। তাই বাস্তবতা বিবেচনায় এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসে ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এর আওতায় কয়েকটি ইসলামী ধারার ব্যাংক একীভূত করে একটি নতুন ব্যাংক গঠন করা হয়, যেখানে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মূলধন বিনিয়োগ করে।
ব্যাংক খাতে অতীতে সংঘটিত বড় ধরনের অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারির প্রেক্ষাপটে নতুন এই আইনের প্রভাব নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।