ট্রাম্পকে নিজের নোবেল পদক উপহার দিলেন মাচাদো
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
ভেনেজুয়েলার ভিন্নমতাবলম্বী রাজনীতিক ও ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিজের নোবেল পুরস্কারের পদক উপহার দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি এ উপহার দেন।
মাচাদোর উপহার আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। হোয়াইট হাউসে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মাচাদো বলেন, “আজ ভেনেজুয়েলার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। আমি আমার নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে উপহার দিয়েছি।”
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বিবিসিসহ একাধিক পশ্চিমা গণমাধ্যম হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি যা করেছি, তার স্বীকৃতি হিসেবে মারিয়া তার নোবেল শান্তি পদক আমাকে উপহার দিয়েছেন। এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।”
এদিকে বিষয়টি নিয়ে নোবেল কমিটির সঙ্গেও যোগাযোগ করে বিবিসি। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নোবেল পুরস্কার একবার ঘোষণা হলে তা বাতিল করা যায় না এবং কোনো নোবেলজয়ী তার পুরস্কার আনুষ্ঠানিকভাবে অন্যকে হস্তান্তর বা দান করতে পারেন না। তবে ব্যক্তিগতভাবে কেউ চাইলে নিজের পদক অন্যকে উপহার দিতে পারেন—এ ক্ষেত্রে নোবেলজয়ীর নামই পুরস্কারপ্রাপ্ত হিসেবে নথিভুক্ত থাকবে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৪ জানুয়ারি ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল কারাগারে আটক রয়েছেন। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সরবরাহের অভিযোগে তাদের বিচার হবে।
এর কয়েক ঘণ্টা পর ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে দেশটিতে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
মারিয়া কোরিনা মাচাদো নিজেও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হতে আগ্রহী। মাদুরোবিরোধী রাজনৈতিক জোটের একটি অংশ তাকে সমর্থন দিলেও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বরং মাদুরো দম্পতিকে গ্রেপ্তারের পর ট্রাম্প মন্তব্য করেন, মাচাদোর নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা ও দেশের ভেতরে প্রয়োজনীয় জনপ্রিয়তা নিয়ে তার সংশয় রয়েছে।