আঙুল ট্রিগারে আছে, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানি কমান্ডারের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৭ এএম
চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের একটি বিশাল বহর পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই মন্তব্যের পরপরই যেকোনো সম্ভাব্য হামলার জবাব দিতে ইরানি বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সরাসরি সতর্ক করে বলেন, ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের কোনো বিভ্রান্তিতে থাকা উচিত নয়।
তিনি বলেন, গত বছরের জুনে চাপিয়ে দেওয়া ১২ দিনের সংঘাত থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের স্মরণে রাখা উচিত। সেই অভিজ্ঞতা ভুলে গেলে তাদের জন্য পরিণতি হবে অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক।
ইরানি এই শীর্ষ কমান্ডার আরও বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই— ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস ও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আঙুল ট্রিগারে রয়েছে। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ইরান এখন অনেক বেশি প্রস্তুত এবং আমাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির আদেশ পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’
এর আগে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলন শেষে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি বড় যুদ্ধজাহাজ বহর পারস্য উপসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্যই এই ‘আর্মাদা’ পাঠানো হয়েছে। যদিও এখনই কোনো সংঘাত অনিবার্য— এমনটি তিনি দাবি করেননি।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ একাধিক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যে ইরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এসব যুদ্ধজাহাজ ইরানের উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান নেবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, অদূর ভবিষ্যতে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। সে কারণে আগাম প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বহরে যুক্ত করা হয়েছে উন্নত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, বিপুল গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিস্ফোরক।
অন্যদিকে, প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, আগে ইরানে হামলার প্রস্তুতি স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেও সম্প্রতি ট্রাম্প নতুন করে বিভিন্ন সামরিক বিকল্প পরিকল্পনা দিতে বলেছেন। এসব পরিকল্পনার মধ্যে ইরানের সরকার পতনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ আঞ্চলিক দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানো হবে—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগেই সতর্ক করা হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগও স্থগিত রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।