‘আমাকে ফাঁসানো হয়েছে’ -হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালের দাবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ও সন্দেহভাজন ‘শুটার’ ফয়সাল করিম মাসুদ দাবি করেছেন, তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত নন। রোববার (২২ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গের আদালতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।”
ওসমান হাদি হত্যা মামলায় সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১২ দিনের বিচারবিভাগীয় জেল হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এই সময়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স তাদের জেলেই জেরা করবে। তাদের আবার ২ এপ্রিল আদালতে তোলা হবে।
ফয়সাল এবং আলমগীরের বিরুদ্ধে ইউএপিএ আইন ১৬ ও ১৮ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। এই ধরনের মামলায় ভারতের আইনে পাঁচ বছর থেকে যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে।
আদালত থেকে বের হওয়ার সময় ফয়সাল সাংবাদিকদের বলেন, “আমি হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত নই। আমাকে সরাসরি গুলি করতে দেখানো যাবে না। রাজনৈতিকভাবে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমি ওই সময় বাংলাদেশে ছিলাম। অবশ্যই সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কিন্তু গুলি করতে দেখা যায়নি।”
বাংলাদেশ থেকে কেন ফয়সাল ভারতে চলে এসেছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। এছাড়া তার আগে করা দুবাইয়ের একটি ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও ফয়সাল কোনো উত্তর দেননি।
গত ৭ মার্চ রাতে ফয়সাল এবং তার সহযোগী আলমগীরকে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৮ মার্চ তাদের স্থানীয় আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৪ দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার পর রোববার (১৭ মার্চ) কলকাতার বিধাননগর আদালতে তাদের তোলা হয়। আদালতের আগে শারীরিক পরীক্ষা করানোর জন্য তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) ফিলিপ সাংমাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে দেওয়া হয়। ফিলিপকে অভিযুক্ত করা হয়েছে ফয়সাল ও আলমগীরকে ভারতে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে।
ওসমান হাদি ছিলেন ২৪ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্রগামী নেতা। পরে তিনি ইনকিলাব মঞ্চ গড়ে তুলে আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। হত্যার আগে হাদিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসী হাদিকে গুলি করে। ঢাকায় ও পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা দেওয়া হলেও তিনি বাঁচতে পারেননি।
প্রথমে এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টা মামলা হয়, যা পরে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। প্রধান আসামি করা হয় ফয়সাল করিম মাসুদকে। এছাড়া আসামি করা হয়েছে আলমগীর, তার স্ত্রী, শ্যালক, বান্ধবী ও ফিলিপ সাংমাসহ অন্যান্য সহযোগীদের।
গত জানুয়ারিতে তদন্তকারী পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে। চার্জশিটে মোট ১৭ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে আছেন ফয়সাল করিম মাসুদ, মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখ এবং হত্যার নির্দেশদাতা যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী। যদি আরও কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হবে।
ফয়সালের দুটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে তিনি দুবাইয়ে আছেন এবং হত্যাকাণ্ডে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
ভারতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই হত্যাকাণ্ড ও ফয়সালের রহস্য আরও জটিল হয়ে উঠেছে।