চীনা জাহাজে রাশিয়ার ড্রোন হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলের বন্দরের দিকে যাওয়ার সময় কৃষ্ণসাগরে দুটি বেসামরিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেন দাবি করেছে, হামলাটি চালিয়েছে রাশিয়া। আক্রান্ত জাহাজগুলোর একটি ছিল চীনা মালিকানাধীন কার্গো জাহাজ।
ঘটনাটি ঘটেছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বেইজিং সফরের ঠিক আগের দিন। সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।
ইউক্রেনের সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার শিকার দুটি জাহাজের একটি মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী এবং অন্যটি গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী। জাহাজ দুটি ওডেসা অঞ্চলের বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।
ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর তথ্যমতে, চীনা মালিকানাধীন জাহাজটির নাম ‘কেএসএল দে ইয়াং’। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকা বহন করলেও জাহাজটিতে চীনা ক্রুরা ছিলেন। প্রকাশিত ছবিতে জাহাজটির এক পাশে আগুনে পোড়া দাগ দেখা গেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ড্রোন হামলার লক্ষ্য ছিল ওডেসা অঞ্চল এবং এতে চীনা মালিকানাধীন একটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার দাবি, জাহাজটির অবস্থান সম্পর্কে রুশ বাহিনী অবগত ছিল।
ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর মুখপাত্র দিমিত্রো প্লেতেনচুক জানান, হামলার সময় জাহাজটির সব ক্রুই চীনা নাগরিক ছিলেন। তবে সৌভাগ্যবশত কেউ আহত হননি। হামলার পরও জাহাজটি গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখে।
জানা গেছে, জাহাজটি খালি অবস্থায় ইউক্রেনের পিভদেননি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। সেখানে লোহা আকরিক বোঝাই করার পরিকল্পনা ছিল।
এদিকে একই রাতে ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক হামলা চালানোর অভিযোগও করেছে কিয়েভ। ভলোদিমির জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ৫২৪টি ড্রোন ও ২২টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল।
চীন শুরু থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে ২০২২ সালে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পরও বেইজিং সরাসরি মস্কোর সমালোচনা করেনি। দেশটি এখনো নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকার দাবি করে আসছে।
সূত্র: আল-জাজিরা