হরমুজ নির্ভরতা কমাতে নতুন তেল পাইপলাইন বানাচ্ছে আমিরাত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তেল রপ্তানির বিকল্প পথ শক্তিশালী করতে নতুন পাইপলাইন প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির লক্ষ্য, ২০২৭ সালের মধ্যে তেল রপ্তানির সক্ষমতা দ্বিগুণ করা।
শুক্রবার (১৫ মে) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ সম্প্রতি এক বৈঠকে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি—এডনককে ওয়েস্ট-ইস্ট পাইপলাইন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে এবং ২০২৭ সালে এটি চালু হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে দেশটির বিদ্যমান আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইন বা এডিসিওপি প্রতিদিন প্রায় ১৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে সক্ষম। ওমান উপসাগরীয় উপকূল ব্যবহার করে সরাসরি তেল রপ্তানিতে এই পাইপলাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—দুই দেশই হরমুজ প্রণালির বাইরে পাইপলাইনের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সুবিধা পেয়ে থাকে। ফলে সামুদ্রিক রুটে সংকট তৈরি হলেও বিকল্প পথে রপ্তানি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের মাঝামাঝি অবস্থিত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ইরান সাময়িকভাবে প্রণালিটি বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। এতে বিশ্বে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ ব্যাহত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুয়েত, ইরাক, কাতার ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো প্রায় পুরোপুরি হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তারা বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে সরবরাহ সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। এতে বিভিন্ন দেশ জ্বালানি মজুত বাড়াতে শুরু করেছে এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কাও বাড়ছে।