‘আমি ফেঁসে গেছি তুই ফাঁসিস না’, মৃত্যুর আগে তরুণীর সতর্কবার্তা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপালে রহস্যজনকভাবে মারা যাওয়া ৩৩ বছর বয়সী তরুণী টুইশা শর্মার মৃত্যুর আগে পাঠানো কিছু চাঞ্চল্যকর চ্যাট ও বার্তা প্রকাশ্যে এসেছে। এসব বার্তায় উঠে এসেছে তার মানসিক অবসাদ, একাকীত্ব এবং বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে ‘ফেঁসে যাওয়ার’ অভিযোগ।
বন্ধুদের সঙ্গে হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম কথোপকথনে টুইশা নিজের দাম্পত্য জীবন নিয়ে গভীর হতাশার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, সারাদিন ঘরে বসে থাকতে থাকতে তিনি তীব্র উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন এবং নিজের মতো করে কাজ করতে চাইলেও সেই সুযোগ পাচ্ছিলেন না।
গত ১২ মে ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় স্বামী সমর্থ সিংহের বাড়ি থেকে টুইশার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উত্তরপ্রদেশের নয়ডার বাসিন্দা টুইশা একজন এমবিএ ডিগ্রিধারী ছিলেন। বিয়ের আগে দিল্লির একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে চাকরি করতেন তিনি।
মৃত্যুর পাঁচ দিন আগে এক বান্ধবীর সঙ্গে চ্যাটে টুইশা লেখেন, ‘বিয়ের ভূত মাথায় চাপিয়ে তাড়াহুড়া করে বিয়ে করিস না। খুব ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিস।’ পরে আরেকটি ইনস্টাগ্রাম বার্তায় তিনি আরও আতঙ্কিত কণ্ঠে লেখেন, ‘আমি পুরোপুরি ফেঁসে গেছি ভাই। তুই শুধু ফাঁসিস না।’
এসব বার্তা প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা— তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে আইনজীবী সমর্থ সিংহের সঙ্গে টুইশার পরিচয় হয়। পরে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়।
টুইশার পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর পরও তারা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না। টানা পাঁচ দিন ধরে তার মরদেহ ভোপাল এইমস হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভও করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
টুইশার বাবা নবনিধি শর্মা ও তার চাচাতো ভাই আশীষ শর্মার দাবি, ভোপালে পৌঁছানোর পর থেকেই তারা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পুলিশের বিরুদ্ধেও মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগ তোলেন তারা।
প্রাথমিক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘ফাঁসিতে ঝুলে থাকা’র কথা উল্লেখ করা হলেও টুইশার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে দাবি পরিবারের। তাদের ভাষ্য, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
এ ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিংহ এবং তার ছেলে সমর্থ সিংহের বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় তদন্তে প্রভাব খাটানোর আশঙ্কা করছে পরিবার।
ঘটনাটির তদন্তে ইতোমধ্যে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে দিল্লির এইমস হাসপাতালে পুনরায় ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
সূত্র: এনডিটিভি