অন্য দেশের সরকার বদলের মার্কিন নীতির সমাপ্তি ঘোষণা করলেন তুলসী গ্যাবার্ড
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৩ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ‘সরকার বদল’ বা ‘রাষ্ট্র গঠন’ নীতি এখন অতীত— এমন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বাহরাইনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলন ‘মানামা ডায়ালগ’-এ অংশ নেওয়ার আগে তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলেই যুক্তরাষ্ট্রের আগের রেজিম চেইঞ্জ নীতির সমাপ্তি ঘটে।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা গবেষণা সংস্থা আয়োজিত ওই সম্মেলনে তুলসী গ্যাবার্ড জানান, “দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি একধরনের ব্যর্থ চক্রে আটকে ছিল, যার মূল ছিল অন্য দেশের সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টা। এই একমাত্রিক নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র বন্ধু নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে শত্রু তৈরি করেছে।”
তিনি বলেন, “শাসক পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্য দেশের ওপর আমেরিকান নীতি চাপিয়ে দেওয়া এবং বিদেশি সংঘাতে অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়, অসংখ্য প্রাণহানি এবং বৃহত্তর নিরাপত্তা হুমকি তৈরি হয়েছে।”
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যাবার্ডের এই বক্তব্য ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সফরকালীন মন্তব্যেরই প্রতিধ্বনি। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের পরিবর্তে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
এর মধ্যে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধ সমাপ্ত করা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গ্যাবার্ড আরও বলেন, “ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র এখন যুদ্ধ নয়, শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় মনোযোগ দিচ্ছে। সামনের পথ সহজ হবে না, তবে তিনি এই নীতিতে অবিচল।”
হাওয়াইয়ের সাবেক কংগ্রেস সদস্য ও ইউএস আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের প্রাক্তন সদস্য গ্যাবার্ড জানান, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার ও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সমাধান খোঁজা ট্রাম্প প্রশাসনের পরিবর্তিত নীতির অংশ ছিল।
তবে তিনি দক্ষিণ আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ও গোপন অভিযানের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
গ্যাবার্ডের মতে, ট্রাম্পের এই নতুন পররাষ্ট্রনীতি এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। “গাজায় যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুর, আর ইরান আবার পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করেছে। তবুও যুক্তরাষ্ট্র শান্তির পথে অটল থাকবে,” বলেন তিনি।
সূত্র: ইউএনবি