সরকারি নির্দেশেই দিল্লিতে ইন্টারনেট বন্ধ, দাবি টেলিকম সংস্থাগুলোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকার আংশিকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল বলে দাবি করেছে দেশটির টেলিকম সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এই নির্দেশের কোনো আনুষ্ঠানিক কপি এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, এয়ারটেল, জিও এবং ভি-সহ একাধিক টেলিকম সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে সরকারি নির্দেশে সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত করতে বলা হয়। দুটি শীর্ষ টেলিকম প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এ ধরনের নির্দেশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল থেকে পরিষেবা বন্ধ থাকার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তা পুনরায় চালু করা হয়। তবে কোন সরকারি সংস্থা এই নির্দেশ জারি করেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সকাল ১০টার দিকেই মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

ডিজিটাল অধিকারবিষয়ক সংগঠন ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির দাবি, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী টেলিকম পরিষেবা স্থগিত করার প্রতিটি আদেশ প্রকাশ করতে হবে, এর কারণ লিখিতভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং সিদ্ধান্তটি হতে হবে প্রয়োজনের তুলনায় সর্বনিম্ন কঠোর। পাশাপাশি এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা ও নির্ধারিত পর্যালোচনা কমিটির তত্ত্বাবধানে থাকার কথা।

সংগঠনটির মতে, দিল্লিতে সাম্প্রতিক ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনায় এসব আইনি শর্ত মানা হয়নি। বিশেষ করে আদেশটি প্রকাশ না করায় এটি ‘অনুরাধা ভাসিন বনাম ভারত সরকার’ মামলার রায় এবং ‘সাসপেনশন রুলস, ২০২৪’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন আরও বলেছে, সরকারি আদেশ প্রকাশ না হলে সেটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ জারি করেছে কি না কিংবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পর্যালোচনা কমিটি সেটি যাচাই করবে কি না—তা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ থাকে না। তাদের ভাষায়, অপ্রকাশিত আদেশ কার্যত জবাবদিহিতার বাইরে থেকে যায় এবং আদালতে তা চ্যালেঞ্জ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা নতুন নয়। ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইনবিরোধী আন্দোলনের সময় দিল্লির জামিয়া নগর, সিলমপুর ও মান্ডি হাউস এলাকায় প্রথমবারের মতো মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছিল। পরে ২০২১ সালে কৃষক আন্দোলনের সময় গাজিপুর, টিকরি, সিংঘু, মুকারবা চক, নাংলোইসহ বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

এ ছাড়া কিপ ইট অন জোটের ২০২৬ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতে ৬৫ বার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে নথিভুক্ত ২ হাজার ১০২টি ইন্টারনেট বিভ্রাটের মধ্যে ৯২০টির ঘটনাই ঘটেছে ভারতে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970