যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের পর বিশ্ববাজারে বড় বিপদে ভারত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২৭ পিএম
দুবাই এয়ারশোতে বিশ্বের ক্রেতাদের সামনে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধবিমান তেজস বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি সম্ভাবনায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় পাইলট উইং কমান্ডার নমাংশ স্যল নিহত হন। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি।
রোববার (২৩ নভেম্বর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এয়ারশো দুবাইয়ে এমন ঘটনা ভারতের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। মার্কিন বিশ্লেষক ডগলাস এ. বার্কির মতে, “এ ধরনের আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুর্ঘটনার দৃশ্য অত্যন্ত নেতিবাচক”—তবে তিনি আশা করেন তেজস সময়ের সঙ্গে আবার বাজারে গতি পাবে।
যদিও ইতিহাস বলছে, এর আগেও প্যারিস এয়ারশোতে রাশিয়ার সু-৩০ ও মিগ-২৯ বিধ্বস্ত হয়েছিল, কিন্তু পরে সেগুলো বহু দেশে বিক্রি হয়েছে।
১৯৮০-এর দশকে পুরনো মিগ-২১ প্রতিস্থাপনের জন্য শুরু হওয়া তেজস প্রকল্প চলছে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। রাষ্ট্রায়ত্ত হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেড (হাল) ভারতের জন্য ১৮০টি এমকে-১এ মডেল তৈরি করছে, তবে জিই এরোস্পেসের ইঞ্জিন সরবরাহ সমস্যায় ডেলিভারি আটকে আছে।
হালের এক সাবেক কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার পর আপাতত রপ্তানি সম্ভাবনা থমকে গেছে। এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বেশ কিছু দেশকে সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। মালয়েশিয়ায় ২০২৩ সালে হালের একটি অফিসও চালু করা হয়।
ভারতীয় বিমানবাহিনী বর্তমানে ২৯ স্কোয়াড্রনে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে অনুমোদিত সংখ্যা ৪২। শিগগিরই মিগ-২৯, জাগুয়ার ও মিরাজ–২০০০-এর পুরনো সংস্করণ অবসরে যাবে। বিমানবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, এগুলোর বিকল্প হিসেবে তেজসকে ধরা হলেও উৎপাদন জটিলতায় তা সময়মতো পূরণ করা যাচ্ছে না।
তাৎক্ষণিক ঘাটতি পূরণের জন্য ভারত ফরাসি রাফাল, মার্কিন এফ-৩৫ কিংবা রাশিয়ার সু-৫৭ কেনার বিষয় বিবেচনা করছে। পাশাপাশি বর্তমানে বহরে থাকা প্রায় ৪০টি তেজসের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশ্লেষক ওয়াল্টার লাডউইগ বলেন, তেজসের আন্তর্জাতিক বিক্রি যতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ভবিষ্যৎ ভারতীয় যুদ্ধবিমান প্রকল্পের জন্য এই বিমান যে প্রযুক্তিগত ও শিল্পভিত্তি তৈরি করছে।