গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ১ লাখ: জার্মান গবেষণা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৪০ এএম
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহত মানুষের সংখ্যা সরকারি হিসাবকে বহু গুণ ছাড়িয়ে গেছে। জার্মানির বিখ্যাত ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এ সময়ে গাজায় মৃত্যু হয়েছে ১ লাখেরও বেশি মানুষের।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বার্তাসংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে।
জার্মান সাপ্তাহিক পত্রিকা জাইট- এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি সংখ্যার বাইরে বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আরও ভয়াবহ। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, গাজার প্রথম দুই বছরের যুদ্ধকালীন সময়ে ৯৯ হাজার ৯৯৭ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯১৫ জন মানুষের মৃত্যু ঘটেছে বা তারা নিহত হয়েছেন। গড় হিসেবে এই সংখ্যা ১ লাখ ১২ হাজার ৬৯ জন। গবেষণা প্রকল্পটির কো-লিডার ইরিনা চেন জানান, সঠিক মৃতের সংখ্যা হয়তো কখনই জানা যাবে না, তবে তারা যতটা সম্ভব বাস্তবসম্মত একটি অনুমান করতে চেয়েছেন।
গাজাভিত্তিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সরকারি হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধের শুরু থেকে দুই বছরে মৃত্যু হয়েছে ৬৭ হাজার ১৭৩ জনের। তবে গবেষণা বলছে—মন্ত্রণালয়ের তথ্য নিয়ে কারসাজির প্রমাণ না থাকলেও এসব সংখ্যা সাধারণত রক্ষণশীলভাবে গণনা করা হয়। ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মৃতদেহ, হাসপাতালের পরিষেবা ব্যাহত হওয়া, নারী ও শিশুদের মৃত্যুর অনথিভুক্ত থাকা এবং ৬০ বছরের বেশি বয়স্কদের মৃত্যুর তথ্য বাদ পড়ে যাওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি।
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক গবেষণা দলটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের পাশাপাশি স্বাধীন পরিবারভিত্তিক সমীক্ষা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মৃত্যুসংবাদ সংগ্রহ করে পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ প্রস্তুত করে। এতে দেখা যায়, নিহতদের ২৭ শতাংশই শিশু (১৫ বছরের নিচে) এবং ২৪ শতাংশ নারী।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে গাজার মানুষের গড় আয়ু ভয়াবহভাবে কমে যাওয়ার চিত্র। যুদ্ধের আগে নারীদের গড় আয়ু ছিল ৭৭ বছর ও পুরুষদের ৭৪ বছর। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী এই সংখ্যা কমে নারীদের ক্ষেত্রে দাঁড়িয়েছে ৪৬ বছর, পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩৬ বছর। গবেষকদের মতে, এই হিসাব গাজার মানুষের জীবনের ঝুঁকি কীভাবে বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে তা স্পষ্ট করে তুলে ধরে।