কর্মী সংকটে ভারতজুড়ে ইন্ডিগোর শত শত ফ্লাইট বাতিল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:৫১ পিএম
ভারতের বিমান পরিবহন খাতে বিরল ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কর্মী সংকট ও নীতিগত জটিলতার কারণে দেশটির শীর্ষ বিমান সংস্থা ইন্ডিগো একদিনেই ৫৫০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে— যা গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বৃহস্পতিবার এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ক্রু সংকট, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী পরিকল্পনায় ভুল এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার সমন্বয়ে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইন্ডিগো আরও দুই-তিন দিন পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত বজায় রাখবে। বর্তমানে ইন্ডিগো দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৩০০ ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে।
ইন্ডিগোর অন-টাইম পারফরম্যান্সও ভয়াবহভাবে কমে গেছে। বুধবার সময়নিষ্ঠতার হার নেমে এসেছে মাত্র ১৯.৭ শতাংশে, যা মঙ্গলবারের ৩৫ শতাংশ থেকেও কম।
সংস্থাটির পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসেছে ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ। সমস্যার মূল কারণ এবং দ্রুত সমাধানের উপায় খুঁজতেই এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইন্ডিগো সিইও পিটার এলবার্স জানান, স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা সহজ কাজ নয়। ইতোমধ্যে মুম্বাইয়ে ১১৮, বেঙ্গালুরুতে ১০০, হায়দরাবাদে ৭৫, কলকাতায় ৩৫, চেন্নাইয়ে ২৬ এবং গোয়ায় ১১টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। অন্যান্য শহর থেকেও একই ধরনের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ইন্ডিগো আরও জানিয়েছে, নভেম্বরের ১ তারিখ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন নীতিমালা বাস্তবায়নে ‘রূপান্তরজনিত জটিলতা’ দেখা দেয়। রাতের অপারেশনে ক্রুর প্রয়োজন অনেক বেড়ে গেছে, যেখানে নীতিমালার সময়সীমা সীমিত এবং পাইলটদের ডিউটি আওয়ার আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।
নতুন নীতিমালার লক্ষ্য পাইলটদের ক্লান্তি কমানো ও নিরাপত্তা বাড়ানো হলেও এতে রোস্টারিং সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ইন্ডিগোর হিসাব বলছে, পাইলটের প্রয়োজনীয় সংখ্যা তাদের পূর্ব অনুমানের তুলনায় অনেক বেশি ছিল— যার ফলে সৃষ্টি হয়েছে অতিমাত্রায় কর্মী সংকট।