ডিসি সারোয়ারের বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি চায় আদালত

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সিলেটে তাজউদ্দিন নামে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হত্যা মামলার তদন্তে অসহযোগিতা এবং আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে সিলেটের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলমের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি চেয়েছে আদালত। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি অনুমতি নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত ও মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার ঢাকা দক্ষিণ আঞ্চলিক মহাসড়কে আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহত হন তাজউদ্দিন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী মোছা. রুলী বেগম একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে।

তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার দিন ওই এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নাম এবং কার নির্দেশে গুলি চালানো হয়েছিল—এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছেও সেদিন দায়িত্বরত সদস্যদের তালিকা চাওয়া হয়।

আদালতের নির্দেশের পর সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দায়িত্বরত সদস্যদের তালিকা দিলেও সিলেটের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বারবার সময় দেওয়া সত্ত্বেও তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে, এতে মামলার তদন্ত কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

এ অবস্থায় তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি আদালত সিলেটের জেলা প্রশাসককে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। নোটিশে জানতে চাওয়া হয়, কেন আদালতের আদেশ অমান্য ও বিচারিক কাজে বাধা সৃষ্টি করার দায়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

পরে এ বিষয়ে আদেশের জন্য গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং পরে ১ মার্চ দিন ধার্য করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিসি কোনো জবাব দেননি কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেননি।

১ মার্চ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার পর্যবেক্ষণে বলেন, একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হয়েও আদালতের নির্দেশ বারবার উপেক্ষা করা শুধু বেআইনি নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসনের পথে বড় বাধা। আদালতের মতে, ডিসির এই আচরণ দণ্ডবিধির ১৭৫, ১৭৯ ও ২১৭ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮৫ ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আইন অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে সরকারের পূর্বানুমতি প্রয়োজন। এ কারণে আদালত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি অনুমতি গ্রহণ করে আদালতকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন।

তাজউদ্দিন হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের এমন অসহযোগিতা এবং আদালতের কঠোর নির্দেশ সিলেটে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970