আবু সাঈদ হত্যা মামলায় রায়: ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র। এছাড়া সাবেক সহকারী কমিশনার আরিফুজ্জামান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম নয়ন এবং উপপরিদর্শক বিভূতি ভূষণ রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মন্ডল, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশিদ এবং রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ডা. সারোয়ারাত হোসেন, মহানগর পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার আবু মারুফ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন সাবেক নেতা—মাহাফুজুর রহমান শামীম, ফজলে রাব্বী, আখতার হোসেন, সেজান আহম্মেদ, ধনঞ্জয় কুমার ও বাবুল হোসেন—প্রত্যেকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড পেয়েছেন।
বহুল আলোচিত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২০২৫ সালের ২৪ জুন দাখিল করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ জুন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হলে ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
পরবর্তী সময়ে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয় এবং সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তা শেষ হয়। মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনসহ মোট ২৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন, যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।
সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে অবশেষে এ রায় ঘোষণা করা হলো। রায়কে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর ছিলেন।
রায় ঘোষণার আগে শহীদ আবু সাঈদের পরিবার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।