হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে যে ৫ অভিযোগ
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ১০:২২ এএম
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আজ রায় ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। কোনো সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় হিসেবে এটিই দেশের ইতিহাসে প্রথম।
মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ট্রাইব্যুনাল ‘সুনির্দিষ্ট পাঁচটি’ অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে।
আসামিদের বিরুদ্ধে আনা পাঁচ অভিযোগ:
১. গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য
২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা উসকানিমূলক বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ। এর পর আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের প্ররোচনা ও সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়। এই হামলায় হত্যা, হত্যার চেষ্টা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থতা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
২. হেলিকপ্টার থেকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ
অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনা হেলিকপ্টার ও ড্রোন থেকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন। আসাদুজ্জামান খান কামাল ও মামুন এই নির্দেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে নির্দেশ দেন। এতে তাদের বিরুদ্ধে নির্দেশ, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
৩. রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদ হত্যা
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তিন আসামিকেই অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নির্দেশ, উসকানি, সহায়তা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে।
৪. ঢাকার চাঁনখারপুলে ছয় ছাত্র হত্যা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চাঁনখারপুল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে ছয়জন ছাত্র নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডেও শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান ও মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
৫. আশুলিয়ায় হত্যা ও লাশ পোড়ানো
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যা, তাদের মধ্যে পাঁচজনের লাশ পুড়িয়ে দেওয়া এবং একজন গুরুতর আহত ব্যক্তিকেও আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এখানে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ, উসকানি, সহায়তা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিদের জ্ঞাতসারে ও নির্দেশে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ আদালতে দাখিল করেছি। এগুলো হিমালয়ের মতো দৃঢ়, ক্রিস্টালের মতো স্বচ্ছ। পৃথিবীর যেকোনো আদালতেই এগুলো অপরাধ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট।”
অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন বলেন, “১৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত শেখ হাসিনা কোনো হত্যার নির্দেশ দেননি—এমন কোনো দালিলিক প্রমাণও নেই। অভিযোগগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট।”