শেখ হাসিনা-কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৩৫ পিএম
জুলাই–আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা ও সহিংসতার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) রায়টি প্রকাশিত হয়। দণ্ডিত সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ জানিয়েছেন, তিনি ইতোমধ্যে রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পেয়েছেন।
গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল–১ শেখ হাসিনা ও কামালের আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে। তাদের সকল সম্পদ বাজেয়াপ্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। একই মামলায় চৌধুরী মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নয় দিন পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর এখন ৩০ দিনের মধ্যে হাসিনা ও কামালের আপিল করার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।
মামলায় প্রসিকিউশনের দাখিল করা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল রায়ে দুটি অভিযোগে ছয়টি ঘটনা উল্লেখ করেছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। একই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মাকসুদ কামালের সঙ্গে কথোপকথনেও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি। ট্রাইব্যুনাল বলছে, এই উসকানি ও নির্দেশের ধারাবাহিকতায় রংপুরে আবু সাঈদ নামের এক আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। এসব ঘটনার দায়ে হাসিনা ও কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৮ জুলাই শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর কথোপকথনে ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং মারণাস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের দমন করার নির্দেশনার প্রমাণ পাওয়া যায়। এর ফলশ্রুতিতে ৫ আগস্ট চানখারপুলে ছয়জন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ, এবং একই দিনে সাভারের আশুলিয়ায় আরও ছয়জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই অভিযোগে হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় এবং তাদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাইয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। দু’টি অভিযোগেই সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।