বিগত ১৫ বছরে পুলিশ দলীয় হিসেবে গড়ে উঠেছিল: আইজিপি

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, বিগত ১৫ বছরে পুলিশ একটি দলীয় বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠেছিল এবং এ সময়ে পুলিশের ভেতরে নানা ধরনের বিচ্যুতি তৈরি হয়। তিনি স্বীকার করেন, এ সময় অনেক গণবিরোধী কর্মকাণ্ড হয়েছে এবং জুলাই-আগস্টে আন্দোলন চলাকালে বিপুলসংখ্যক মানুষ শহীদ হয়েছেন।

শনিবার দুপুরে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটরিয়ামে রংপুর বিভাগে কর্মরত পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ কল্যাণ সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আইজিপি।

আইজিপি বলেন, লোভী ও দলকানা কিছু পুলিশ সদস্যের কারণে বাহিনীর ওপর বড় ধরনের দায়ভার এসেছে। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশকে আবার স্বমহিমায় দাঁড় করানো, মনোবল বৃদ্ধি করা এবং পেশাদারিত্বে ফেরাতে গত এক বছর ধরে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আইন প্রয়োগ করতে গেলে অনেক সময় মানুষ ভুল বোঝে। তারা মনে করে এটি ৫ আগস্টের আগের পুলিশ। এ অবস্থায় নির্বিঘ্নে আইন প্রয়োগ করাই পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইজিপি বাহারুল আলম আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা সভায় উপদেষ্টাদের কাছে তিনি নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের জন্য পূর্ণ সমর্থন ও ‘গ্রিন সিগন্যাল’ চেয়েছেন। রাজনৈতিক দল বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়ার ভয়ে পুলিশ যদি কাজ করতে না পারে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সম্ভব নয়। তবে পুলিশ অন্যায় করলে অবশ্যই জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচন প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা পুলিশের বড় দায়িত্ব। পুলিশের সঙ্গে প্রায় ছয় লাখ আনসার সদস্য কাজ করবে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, অপরাধ শতভাগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রতি বছর গড়ে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার হত্যাকাণ্ড ঘটে। তবে চেষ্টা থাকবে যেন একজন মানুষও প্রাণ না হারায়। শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দায়িত্ব পুলিশের ওপর এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইজিপি বলেন, দেশে সব সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে। তবে সুযোগ সন্ধানীরা সহিংসতা ঘটালে পুলিশ তাদের আইনের আওতায় আনতে চেষ্টা করে। জুলাই-আগস্টের পর সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, মাজার ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা ও চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তবে বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেক মামলার নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লাগছে।

তিনি জানান, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম পুলিশ সদস্যদের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। দেড় লাখ পুলিশের মধ্যে ইতোমধ্যে ১ লাখ ৩৩ হাজার সদস্য প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে বাকিদের প্রশিক্ষণ শেষ হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ও বডি ক্যামেরা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ সময় রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইনসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970