নতুন পে স্কেলে বড় পরিবর্তন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে দ্বিগুণেরও বেশি
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১১ পিএম
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোতে মূল বেতন দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে জাতীয় বেতন কমিশন। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোতে বর্তমানের মতোই বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বহাল থাকবে। এতে ঢাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারীর মোট বেতন প্রায় ৪২ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে, যা বর্তমানে প্রায় ১৭ হাজার টাকা।
জাতীয় বেতন কমিশনের প্রধান ও সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান জানান, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “খুব ভালো কিছু হচ্ছে। আমরা সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দিচ্ছি।”
গত ২৪ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেল প্রণয়নে এই কমিশন গঠন করে। ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে কমিশনের কাজ।
কমিশন সূত্র জানায়, বর্তমানে থাকা ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। তবে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের ব্যবধান কমিয়ে বর্তমান ১:৯ অনুপাতের পরিবর্তে ১:৮ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সব গ্রেডেই বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই বেতন পুনর্গঠনের দাবি উঠছিল। মহার্ঘ ভাতার দাবি থাকলেও চলতি অর্থবছরের বাজেটে তার পরিবর্তে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দেয় সরকার, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।
যদিও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে, তবে অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান রেখেছে। সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, যা এক লাখ ছয় হাজার ৬৮৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নতুন বেতন কাঠামো আংশিক বা পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য জানুয়ারি থেকেই মূল বেতন বা ভাতার একটি অংশ কার্যকরের লক্ষ্য ধরে এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি অংশ পরবর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পে কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক কাজ করছে। তবে বাস্তবায়নের বিষয়টি আলাদা বিবেচনার বিষয়।