নবনির্বাচিত এমপিদের এবার শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য থাকায় সংবিধানের বিধান অনুসারেই সিইসি এ দায়িত্ব পালন করবেন বলে নিশ্চিত করেছে সংসদ ও নির্বাচন কমিশন সূত্র।
সংবিধানের ১৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব স্পিকারের। একই অনুচ্ছেদের ১৪৮(২) ধারায় স্পিকারের মনোনীত ব্যক্তির কাছেও শপথ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার বা তার মনোনীত ব্যক্তি শপথ না পড়ালে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর স্পিকার পদত্যাগ করেন এবং বর্তমানে ডেপুটি স্পিকারও দায়িত্বে নেই। ফলে সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ ও তফসিল-৩ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ গ্রহণের পথ উন্মুক্ত রয়েছে।
আইন অনুযায়ী নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর সর্বোচ্চ তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। সংসদ গঠনের আগেই এই প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়।
এ প্রেক্ষাপটে সংসদ সচিবালয় শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে প্রস্তুতি শুরু করেছে। সংসদ অধিবেশন কক্ষ ও শপথ কক্ষ সংস্কারের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটগ্রহণের আগেই এসব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র লেজিসলেটিভ ড্রাফট এম এম ফজলুর রহমান জানান, নতুন এমপিদের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্নে সরকার পর্যায়ে একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়া যায়নি, তবুও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের কমিশনার আবদুল রহমানেল মাছউদ বলেন, সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে—স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারই নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। এতে ব্যত্যয়ের কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শাহদীন মালিক বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা রক্ষায় সংবিধানে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে সিইসির মাধ্যমে শপথ গ্রহণ সম্পূর্ণ সাংবিধানিক ও বৈধ। শপথে বিলম্ব হলে সংসদের বৈধতা ও কার্যক্রম শুরুর ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।