রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনা, সংসদে খরচ হবে ৮১ কোটি ৭০ লাখ টাকা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই আলোচনায় রাষ্ট্রের প্রায় ৮১ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হতে পারে বলে হিসাব উঠে এসেছে।
শনিবার দুপুরে জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যসূচি সম্পন্ন করতে সময় বরাদ্দ ও অধিবেশনের স্থায়িত্ব নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করা সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ২২টি অধিবেশন (জানুয়ারি ২০১৯ থেকে এপ্রিল ২০২৩) পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংসদের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতি মিনিটে গড়ে প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ টাকা ব্যয় হয়েছে।
সে হিসেবে ৫০ ঘণ্টা আলোচনাকে মিনিটে হিসাব করলে মোট সময় দাঁড়ায় ৩ হাজার মিনিট। প্রতি মিনিটে গড়ে ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ টাকা হিসেবে ৫০ ঘণ্টা আলোচনায় মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৮১ কোটি ৭০ লাখ ৯২ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাস্তবে ব্যয়ের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।
সংসদ পরিচালনার এই ব্যয়ের মধ্যে সংসদ সদস্যদের পারিশ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ভবন ভাড়া ও বিল, বিদ্যুৎ, পানি, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে।
তথ্য অনুযায়ী, নবম জাতীয় সংসদে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতি মিনিটে ব্যয় ছিল প্রায় ৪২ হাজার টাকা। দশম জাতীয় সংসদে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। আর একাদশ জাতীয় সংসদে এসে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার টাকায়। অর্থাৎ কয়েক দফায় ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কার্য উপদেষ্টা কমিটি জানিয়েছে, সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হবে এবং আগামী ৩০ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত হবে। প্রয়োজনে অধিবেশনের সময় ও কার্যদিবস পরিবর্তনের ক্ষমতা স্পিকারকে দেওয়া হয়েছে।
কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান, সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা।
এদিকে চলতি অধিবেশনে মোট ৪৬৮টি প্রশ্ন এসেছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর জন্য রয়েছে ৮টি প্রশ্ন এবং বিভিন্ন মন্ত্রীর জন্য রয়েছে ৪৬০টি প্রশ্ন। পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ এসেছে ২৭টি এবং সিদ্ধান্ত প্রস্তাব জমা পড়েছে ৯৭টি।