ঈদযাত্রায় ভাড়া নৈরাজ্য চরমে, ২০ বছরের রেকর্ড ছাড়ানোর আশঙ্কা

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

এবারের ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য গত ২০ বছরের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন দাবি করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। একটি সংক্ষিপ্ত সমীক্ষার ভিত্তিতে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।

সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে দেশের প্রায় ৮৭ শতাংশ বাস ও মিনিবাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। শুধু দূরপাল্লা নয়, রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের সিটিবাসেও একই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটে ভাড়া কয়েকগুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ঢাকা-পাবনা রুটে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকার ভাড়া বাড়িয়ে ১২০০ টাকা, ঢাকা-রংপুর রুটে ৫০০ টাকার ভাড়া ১৫০০ টাকা এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ২৫০ টাকার ভাড়া ৬০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া অনেক পরিবহন নির্ধারিত গন্তব্যের টিকিট না দিয়ে যাত্রীদের দূরের গন্তব্যের টিকিট কিনতে বাধ্য করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সিএনজি ও ডিজেলচালিত বাসের আলাদা ভাড়া কাঠামো থাকা সত্ত্বেও সমান হারে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

সমিতির হিসাবে, ঈদে দূরপাল্লার প্রায় ৪০ লাখ যাত্রীর কাছ থেকে গড়ে ৩৫০ টাকা করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে মোট অর্থ দাঁড়াবে প্রায় ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অন্যদিকে, নগর পরিবহনে ৬০ লাখ যাত্রীর কাছ থেকে গড়ে ৫০ টাকা করে অতিরিক্ত নিলে আরও ২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা আদায় হবে। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত আদায়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা।

সংগঠনটি দাবি করেছে, ভাড়া নৈরাজ্যের পেছনে পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি, বাড়তি পরিচালন ব্যয়, ঈদ বোনাস এবং মালিকদের অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা দায়ী। পাশাপাশি ভাড়া নিয়ন্ত্রণে গঠিত তদারকি দলে যাত্রী প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত না করায় কার্যকর নজরদারির ঘাটতি রয়েছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গণপরিবহনে ডিজিটাল লেনদেন চালু, নগদ লেনদেন কমানো, সড়কে নজরদারি বাড়ানো এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

তাদের মতে, এই ভাড়া নৈরাজ্য চলতে থাকলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, সামাজিক অস্থিরতা, পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা এবং সড়ক দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্ন আয়ের মানুষ।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970