ঈদযাত্রা ঘিরে ‘১৪৮ কোটি অতিরিক্ত ভাড়া’ অভিযোগকে গুজব বলছে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের মানুষের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার, সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। টার্মিনালগুলোতে র্যাব, পুলিশ, বিআরটিএ ও ভোক্তা অধিকার সংস্থার সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে একজনকে শাস্তিও দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর মধ্যেই ‘যাত্রী কল্যাণ সমিতি’ নামের একটি সংগঠন ১৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলে একটি প্রেস রিলিজ দেয়, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগটি তথ্য-উপাত্ত ও নির্ভরযোগ্য গবেষণাবিহীন এবং সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত। সংগঠনটির পক্ষ থেকে কোনো ভুক্তভোগীর নাম-পরিচয় বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বছরের অন্যান্য সময় অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীরা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম টাকায় যাতায়াত করলেও ঈদে যাত্রীর চাপ বাড়ায় বিআরটিএ নির্ধারিত পূর্ণ ভাড়ায় টিকিট বিক্রি হয়। এছাড়া অনেক যাত্রী সরাসরি গন্তব্যের টিকিট না পেয়ে দূরবর্তী গন্তব্যের টিকিট কিনে মাঝপথে নেমে যান—যা ভুলভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ এ অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, সংগঠনটির এক ব্যক্তি ব্যক্তিগত প্রচারণা ও পরিবহন খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন।
সচেতন মহল মনে করছে, নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়া এমন অভিযোগ জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে এবং ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করা সংশ্লিষ্টদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই এ ধরনের তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।