অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা সংগ্রহে অব্যবস্থাপনায় হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, দেশজুড়ে আক্রান্ত ৩২ হাজার, মৃত্যু ২৫০ শিশু
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত ৩২ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৫০ জনেরও বেশি—যাদের বেশিরভাগই শিশু। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী Science-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা সংগ্রহ নীতিতে পরিবর্তন আনার ফলে দেশে টিকার ঘাটতি তৈরি হয়। আগে UNICEF ও Gavi-এর সহায়তায় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চললেও, ২০২৫ সালে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।
এই সিদ্ধান্তের সময় ইউনিসেফ সতর্ক করেছিল—টিকা সরবরাহ ব্যাহত হলে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। পরবর্তীতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় টিকা সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়, ফলে রুটিন টিকাদান ভেঙে পড়ে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের ভিড় বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকার একটি শিশু হাসপাতালে ছয় মাস বয়সী শিশু রিসার মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেছে। একই সময়ে তার যমজ বোন জীবন-মৃত্যুর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
World Health Organization-এর তথ্যমতে, প্রাদুর্ভাবটি প্রথমে সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শুরু হয়ে দ্রুত দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় ছড়িয়ে পড়ে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা সংকটের পাশাপাশি ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকা এবং শিশুদের অপুষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই পরিস্থিতিতে টিকা সংগ্রহে ব্যর্থতা ও অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই নতুন পদ্ধতিতে টিকা কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
নতুন সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে। আবারও ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ শুরু হয়েছে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে এবং দেশব্যাপী শিশুদের জন্য জরুরি টিকাদান কার্যক্রম চলছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সংক্রমণের বিস্তার এতটাই দ্রুত যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। অনেকেই দ্রুত ‘জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই প্রাদুর্ভাব শুধু একটি স্বাস্থ্য সংকট নয়, বরং নীতিগত সিদ্ধান্ত, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং জনস্বাস্থ্য কাঠামোর দুর্বলতার সম্মিলিত ফল—যার মূল্য দিচ্ছে দেশের শিশুরা।