বন্যা ও পাহাড় ধসে মৃত ৪৪, সাত জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভয়াবহ বন্যা এবং পাহাড় ধসে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪ জনে পৌঁছেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, এ দুর্যোগে সাত জেলার ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৮টি উপজেলার ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারে। সেখানে বন্যা ও পাহাড় ধসে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিক। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ২৪ জন।
চট্টগ্রামে বন্যা ও দেয়াল ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। বান্দরবানে পাহাড় ধস ও আকস্মিক ঢলে মারা গেছেন ৬ জন। রাঙামাটিতে প্রাণহানি হয়েছে ৩ জনের, আর মৌলভীবাজারে বন্যাজনিত ঘটনায় মারা গেছেন একজন।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে চট্টগ্রাম। জেলার ১৬টি উপজেলায় ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩০ জন মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছেন। সেখানে পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি।
এ ছাড়া কক্সবাজারে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন, খাগড়াছড়িতে ২৭ হাজার ২২০ জন, রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৫২৪ জন, বান্দরবানে ৮ হাজার ৩৫০ জন, মৌলভীবাজারে ৩৮ হাজার ১৭২ জন এবং হবিগঞ্জে ২৮ হাজার ১৪০ জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
দুর্যোগে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন হাজারো মানুষ। বর্তমানে সরকার ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন। তবে দুর্গম এলাকার অনেক মানুষ এখনও নিজ নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন। বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৬ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
জেলাভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে চট্টগ্রামে ৭০০ টন চাল ও ৪০ লাখ টাকা, কক্সবাজারে ৪৫০ টন চাল ও ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে প্রতিটি জেলায় ৪০০ টন চাল ও ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মৌলভীবাজার পেয়েছে ২০০ টন চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং হবিগঞ্জের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১০০ টন চাল ও ৫ লাখ টাকা।
তবে সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক দুর্গম এলাকায় এখনও ত্রাণ পৌঁছে দিতে বেগ পেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। ফলে পানিবন্দি মানুষ পানি নেমে যাওয়ার অপেক্ষায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সেখ ফরিদ আহমেদ জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত জেলার প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।