মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৫২ এএম
মজলুম জননেতা, আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর)। ১৯৭৬ সালের এই দিনে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। পরে টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাকে দাফন করা হয়।
১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করলেও রাজনৈতিক জীবনের বড় অংশই তিনি কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে। কৈশোর থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ভাসানী ছিলেন সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামী নেতা। বাংলা-আসাম প্রদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি হিসেবে জমিদারদের নির্যাতনবিরোধী আন্দোলনসহ নানা বিষয়ে তিনি নেতৃত্ব দেন।
১৯৫৭ সালের ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন তার রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তৈরি করে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি সর্বদলীয় ওয়ার কাউন্সিলের উপদেষ্টা ছিলেন। স্বাধীনতার পর তার সবচেয়ে আলোচিত আন্দোলন ছিল ফারাক্কা লংমার্চ।
১৯১১ সালে মওলানা মোহাম্মদ আলীর সান্নিধ্যে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। খিলাফত আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, রেশমী রুমাল আন্দোলন—সব ক্ষেত্রেই তার ছিল উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। কৃষক-মজুরদের অধিকার রক্ষায় ১৯২৫-২৭ সালে পূর্ব বাংলা ও আসামে ব্যাপক সংগঠন গড়ে তোলেন তিনি।
১৯৩৬ সালে কংগ্রেস ত্যাগ করে মুসলিম লীগে যোগ দিয়ে আসামের প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সভাপতি হন ভাসানী। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আওয়ামী মুসলিম লীগ এবং সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে ১৯৫৭ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৬৫ সালের নির্বাচনে ফাতেমা জিন্নাহর পক্ষে ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৬ সালে ন্যাপের পক্ষ থেকে ১৪ দফা, ১৯৬৮ সালে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন। ১৯৭০ সালে বিভিন্ন কৃষক সম্মেলন এবং ৪ ডিসেম্বর পল্টনে স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তানের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন।
স্বাধীনতার পরও গণমানুষের অধিকার আদায়ে সক্রিয় ছিলেন তিনি। ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের সময় তার নেতৃত্বে ‘ভুখা মিছিল’ বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি কাড়ে। ১৯৭৬ সালে তার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ফারাক্কা লংমার্চ দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
এদিকে ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সন্তোষে তার মাজারে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।