দেশে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা, বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:৫৬ পিএম
গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় অবস্থিত ‘মেগাথার্স্ট’ ফল্টকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ৯ মাত্রা পর্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে বলে সতর্ক করেছেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে শনিবার আয়োজিত ‘আর্থকুয়েক অ্যাওয়ারনেস, সেফটি প্রটোকল অ্যান্ড ইমার্জেন্সি প্রিপারেডনেস’ শীর্ষক সেমিনারে তারা এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক ফল্টলাইনের ওপর অবস্থান করায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। তবে সময়মতো জনসচেতনতা, আধুনিক প্রযুক্তি, মানসম্মত নির্মাণ এবং সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি থাকলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব।
সেমিনারে জানানো হয়, গত ১০০ বছরে বাংলাদেশে ২০০টিরও বেশি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে এবং ২০২৪ সালের পর থেকে কম্পনের হার আরও বেড়েছে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬ সালের গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সাবডাকশন জোনে গত ৮০০ থেকে ১,০০০ বছরের সঞ্চিত শক্তি এখনো মুক্ত হয়নি—যা ভয়াবহ ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
জাপানের ভূমিকম্প-সহনশীল স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ কেসিরো সাকো ও হেসাইয়ে সুগিয়ামা সেমিনারে উপস্থিত থেকে ভূমিকম্প-পরবর্তী জাপানের অভিজ্ঞতা, নিরাপদ অবকাঠামো নকশা এবং টেকসই নির্মাণ পদ্ধতি নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। বক্তারা বলেন, ভূমিকম্প সহনশীল ভবন নির্মাণ, পুরনো ভবনের স্ট্রাকচারাল অডিট, নির্মাণ কাজের কঠোর তদারকি এবং জরুরি উদ্ধার সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি নাগরিক পর্যায়ে নিয়মিত ড্রিল ও সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ভারত, মিয়ানমার ও ইউরেশীয় প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করায় বাংলাদেশ ভূমিকম্প-প্রবণ রাষ্ট্রগুলোর একটি। সিলেটের ডাউকি ফল্ট, চট্টগ্রাম-টেকনাফের চিটাগং–আরাকান ফল্ট এবং মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট মিলিয়ে ঝুঁকি আরও তীব্র হয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ, ঘনবসতি, দুর্বল ভবন কাঠামো এবং সংকীর্ণ সড়ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় অনুভূত একাধিক ভূমিকম্প দেশের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার স্মারক। তিনি জানান, রাষ্ট্র, আবাসন খাত ও জনগণ—এই তিন স্তম্ভকে শক্তিশালী করতে পারলেই বড় ধরনের ভূমিকম্প মোকাবিলা সম্ভব হবে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন প্রফেসর ড. এম শামীম জেড বসুনিয়া, প্রফেসর ড. সৈয়দ ফখরুল আমিন (বুয়েট), রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ওয়াহিদুজ্জামান, লিয়াকত আলী, রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল হোসেন চৌধুরী রিজভী, প্রফেসর ড. রাকিব আহসান (বুয়েট), বাজুস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান, বিএমইডির পরিচালক মমিনুল ইসলামসহ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা।