গুমের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০১ পিএম
গুমের শিকার ব্যক্তির মৃত্যু হলে জড়িতের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবনসহ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ জারি করেছে সরকার। আর গুমের সাক্ষ্য-প্রমাণ নষ্ট এবং গোপন আটককেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবহার করলে সাত বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় অধ্যাদেশটি গেজেটে প্রকাশ করে। এতে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এই ধরনের অপরাধ জামিন ও আপস অযোগ্য। পাশাপাশি গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার আগে তার অবস্থান ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে’ গোপন রাখা যাবে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, গুমের আদেশ বা অনুমতি দেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কমান্ডাররাও সমানভাবে দায়ী হবেন। অপরাধ সংঘটিত হলে দায়ী ব্যক্তি জাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
গুমের ফলে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে বা পাঁচ বছরের মধ্যে তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে দায়ী ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মুখোমুখি হবেন। এছাড়া, যদি কেউ গুমের সাক্ষ্য-প্রমাণ নষ্ট করে বা গোপন আটককেন্দ্র ব্যবহার করে, তার সাজা হবে সাত বছর কারাদণ্ড।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কমান্ডার যদি অধস্তনদের এমন কর্মকাণ্ডে আদেশ, অনুমতি, প্ররোচনা বা অংশগ্রহণ করান, তবে তিনি মূল অপরাধের জন্য দণ্ডিত হবেন। অধস্তনরা অপরাধ করলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের নিয়ন্ত্রণ বা তত্ত্বাবধান ব্যর্থ হলে তারও দায় হবে।
এছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক হলেও তার অনুপস্থিতিতে বিচার সম্পন্ন করা যাবে। গুম হওয়া ব্যক্তির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি পরিবারের জন্য ট্রাইব্যুনাল দিতে পারবে।