জাতীয় নির্বাচনে ভোটের সময় বাড়ল এক ঘণ্টা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:১৬ পিএম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসাথে অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোট এখন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে। নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে যেখানে সম্ভব, একাধিক সিক্রেট বুথ স্থাপন করা হবে; যেখানে জায়গা সংকুলান নেই, সেখানে প্রয়োজনে আলাদা বুথ তৈরি করা হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন এবং অন্যান্য কমিশনারদের নেতৃত্বে মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের সময়সীমা বৃদ্ধি ছাড়াও বয়স্ক, পঙ্গু ও সন্তানসম্ভবা ভোটারদের বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রগুলিতে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
প্রবাসী ও ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ব্যালট বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল থেকে প্রবাসীদের ব্যালট ছাপানো শুরু হবে এবং পরশু থেকে বিদেশে প্রেরণ করা হবে। পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন সময়সীমা ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে পোস্টাল ভোটের জন্য ১৫ দিনব্যাপী নিবন্ধন কার্যক্রমও শুরু হবে।
নির্বাচন কমিশন প্রচার সামগ্রী অপসারণ ও আচরণবিধি মানা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। তফসিল ঘোষণার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার সামগ্রী সরানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে সোশ্যাল সেফটি নেটওয়ার্ক যেমন বয়স্ক ভাতা বিতরণে কোনো বাধা থাকবে না।
নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অবাধ করতে প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রস্তুতিও সম্পূর্ণ। কর্মকর্তাদের কেন্দ্রে আগের রাতেই পৌঁছানোর নির্দেশ থাকছে, যাতে কোনো স্থানীয় সহায়তা নেওয়া না হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের জন্য এই সপ্তাহে নির্দেশনা জারি হবে, যা স্ট্যাটিক ডেপ্লয়মেন্ট থেকে সেন্ট্রাল রিজার্ভ ফোর্স পর্যন্ত কার্যকর হবে।
ভোটগ্রহণের দিন সাধারণ ছুটি থাকবে। দুর্গম এলাকায় নির্বাচনী মালামাল ও ভোট গ্রহণকারীদের জন্য হেলিকপ্টার সহায়তা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে ব্যাংক ও পোস্ট অফিস খোলা থাকবে।
ইসি আরও জানান, ভোটের দিন মনিটরিং সেল ও ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েনের মাধ্যমে নির্বাচনী অনিয়ম এবং মিসইনফরমেশন মোকাবিলা করা হবে। ৩০০ আসনে ৩০০টি ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি কাজ করবে এবং প্রতিটি উপজেলা বা থানায় দুজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন। নির্বাচনের শেষ পাঁচ দিনে এই সংখ্যা বাড়ানো হবে।
ভোটগ্রহণের জন্য ব্যালট পেপার আগের রাতেই কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে। ইসি আশা করছেন, ভোট শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।