তারেক রহমান-জয়শঙ্কর সাক্ষাত, বরফ গলছে নয়াদিল্লি-বিএনপি সম্পর্কে!
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভারত ও বিএনপির সম্পর্ক নতুন মোড় নিচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাক্ষাৎকে ঘিরে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের দূরত্ব কমার ইঙ্গিত মিলছে।
কালো পোশাকে শোক প্রকাশ করে জয়শঙ্কর তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তার হাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি তুলে দেন। এর আগের দিনই বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জয়শঙ্করের দেওয়া বার্তাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। তিনি লেখেন, খালেদা জিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে পথনির্দেশক হবে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, অতীতে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ভারতের আপত্তি থাকলেও সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো নয়াদিল্লির দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে এই বার্তা কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
ঢাকায় তারেক রহমান ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে জয়শঙ্করের সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কে সম্ভাব্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন বিএনপির পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তাঁর মতে, আঞ্চলিক বাস্তবতা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভারত ও বিএনপিকে পারস্পরিক বোঝাপড়ার পথে এগোতে বাধ্য করেছে।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক ভারসাম্য বদলে যায়। শেখ হাসিনার প্রতি ভারতের দীর্ঘদিনের সমর্থনের কারণে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব জোরালো হয়। বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন এবং তাঁর প্রত্যর্পণ ইস্যু এখনো অমীমাংসিত।
এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ের বিক্ষোভ, ভিসা সেবা স্থগিত এবং পারস্পরিক উত্তেজনা দুই দেশের সম্পর্কে চাপ তৈরি করলেও নির্বাচনের সমীকরণ নতুন হিসাব সামনে আনছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় বিএনপি মধ্যপন্থি রাজনৈতিক পরিসর দখলের চেষ্টা করছে এবং জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে, যা ভারতের জন্য তুলনামূলক স্বস্তির বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা মনে করেন, তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে রাজনৈতিক পরিণত ভাব স্পষ্ট। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের কথা বলায় নয়াদিল্লির কাছেও তিনি আগের চেয়ে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের তুলনায় তারেক রহমান এখন ভারতের কাছে ‘নিরাপদ বিকল্প’। তবে কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ বা বার্তায় সম্পর্ক পুরোপুরি পুনর্গঠিত হবে না বলেও মত দিচ্ছেন অনেকে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে ভারতকে চাপ দেওয়া হবে—এ কথাও স্পষ্ট করেছেন দলটির নেতারা।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে ভারত ও বিএনপির সম্পর্ক কি সত্যিই নতুন পথে এগোচ্ছে—তা নির্ভর করবে আগামী নির্বাচন ও তার পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর।