জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ভারতীয় গণমাধ্যমে মাহফুজ আলম
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার মাহফুজ আলম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইক-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রচারিত প্রায় সাড়ে ১৪ মিনিটের ওই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পুরনো ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, সংস্কার প্রক্রিয়া এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন মাহফুজ আলম।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে জামায়াতও থাকবে, আবার জামায়াত থাকলেও আওয়ামী লীগ টিকে থাকবে। তার ভাষায়, জামায়াত মূলত আওয়ামী লীগের ‘অল্টার ইগো’। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশকে নিয়ে জামায়াতের কোনো স্বচ্ছ ভিশন বা সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই।
ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে নিজে অংশ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণ শক্তিগুলোকে একত্র করে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এনসিপি পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাদের সঙ্গে জোট করা হয়েছে তারা পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোরই অংশ। জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে এমন অনেক প্রশ্ন সামনে আসে, যার কোনো সন্তোষজনক উত্তর নেই। কারণ রাষ্ট্র পরিচালনা ও আদর্শিক জায়গায় নতুন প্রজন্মের সঙ্গে তাদের কোনো মিল নেই।
তিনি আরও বলেন, গত দেড় বছরের রাজনৈতিক যাত্রা ছিল এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার মতো। তার মতে, পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা নতুন মোড়কে আবার ফিরে আসছে, যা জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষাকে ব্যর্থ করে দিচ্ছে।
ভবিষ্যৎ সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক করে মাহফুজ আলম বলেন, ক্ষমতায় যে দলই আসুক—বিএনপি বা জামায়াত—সমাজের ভেতরে থাকা বিভাজন ও ক্ষত সারাতে না পারলে কোনো সরকারই টিকতে পারবে না। কাগজে-কলমে সংস্কার যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভিন্ন মত ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা না হলে সমাজে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে।
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ এখন গণমাধ্যমকে বিশ্বাস করে না। এই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে গণমাধ্যমকে অতীত ভূমিকার জন্য জনগণের সঙ্গে এক ধরনের বোঝাপড়ার জায়গায় আসতে হবে।
বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকা মাহফুজ আলম বই পড়া ও হতাশ তরুণদের সঙ্গে আলাপের মাধ্যমে সময় কাটাচ্ছেন বলে জানান। তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন, কেন জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা যায়নি এবং ভবিষ্যতের পথ কী হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়েন। ওই মাসের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে ২৮ আগস্ট মাহফুজ আলম প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং ১০ নভেম্বর সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।