আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের প্রস্তুতি নিতে হবে: জামায়াত আমির
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, সরকার যদি কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করে, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না। একই সঙ্গে তিনি যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষকে দেশের মর্যাদা রক্ষায় আরেকটি ‘অনিবার্য বিপ্লব’-এর জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সীমান্তে বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ‘পুশইন’-এর নামে একটি প্রতিবেশী দেশ তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এ ক্ষেত্রে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে এবং দেশের জনগণও তাদের পাশে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিবেশী দেশের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশ যেমন প্রতিবেশীদের শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়, তেমনি দেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসী বা নেতিবাচক পদক্ষেপও সহ্য করা হবে না। কেউ ‘কালো হাত’ বাড়ালে তার জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য এই বিপ্লব কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল, পরিবার বা গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়। বরং একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড় করানোর লক্ষ্যেই এ আন্দোলনের প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতিমুক্ত, চক্রান্তমুক্ত, মানবিক ও দলীয় প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে প্রবীণ ও তরুণদের অংশগ্রহণের প্রশংসা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্যায়, আধিপত্যবাদ, দুর্নীতি, চাটুকারিতা ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বয়সের ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা, সম্পদ লুণ্ঠন বন্ধ, হত্যার রাজনীতি পরিহার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তারা তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বরং রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে এবং ব্যাংক, বিমা ও শেয়ারবাজার থেকে অর্থ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচারের অভিযোগও তোলেন তিনি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একসময় যিনি দেশ না ছাড়ার কথা বলেছিলেন, শেষ পর্যন্ত জনরোষের মুখে তাকে দেশত্যাগ করতে হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্যও করেন।
এ ছাড়া তিনি বলেন, যদি জনগণের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সংসদে সমাধান না হয়, তাহলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাঠে-ময়দানে গণজাগরণ সৃষ্টি হবে এবং সেই জনমতই ভবিষ্যতে সরকার গঠনে ভূমিকা রাখবে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ ও মাওলানা মামুনুল হক। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।