গণভোটের রায় উপেক্ষা করলে সরকারও টিকবে না: জামায়াত আমির
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন না হলে বর্তমান সরকারের বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, গণভোটে জনগণের রায় উপেক্ষা করা হলে এই সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন। একই দিনের ভোটের ভিত্তিতে সরকার ক্ষমতায় এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণভোটের রায় অস্বীকার করা হলে সরকারের অবস্থানও গ্রহণযোগ্য থাকবে না।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের পর ক্ষমতায় এসে দলটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেনি, পরে রাজনৈতিক বাস্তবতায় তা উপলব্ধি করতে হয়েছে। এবারও জাতির ক্ষতি হওয়ার আগেই রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুধাবনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল রাজপথে সংঘাত চায় না; বরং সবাইকে নিয়ে দেশ গঠনের কাজে অংশ নিতে চায়। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে রাজপথ উত্তপ্ত হলে তার পরিণতি সবার জন্যই ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, গণভোটের আগে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জনগণের রায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি থেকে তারা সরে এসেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, সরকারের ঘোষিত ৩১ দফার প্রথম দফাতেই সংস্কারের বিষয়টি ছিল।
সংসদে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত ‘বিশেষ কমিটি’ গঠনেরও সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংবিধান বা কার্যপ্রণালী বিধির কোথায় এ ধরনের কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে কমিটির নাম পরিবর্তন করা হলেও মূল উদ্দেশ্য বদলায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০০৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ সময় বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, কারাবরণ করেছেন এবং নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু জনগণ ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত করেনি এবং শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার সময় জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ বর্তমান সরকার বহাল রেখেছে। তাঁর ভাষ্য, সরকার ফ্যাসিবাদের পথ অনুসরণ করছে, যদিও জনগণ অতীতে সেই রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওই আন্দোলনের অবদান কোনোভাবেই খাটো করা যাবে না। একই সঙ্গে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করে বলেন, উভয় ঘটনাকে নিজ নিজ মর্যাদায় মূল্যায়ন করতে হবে। এছাড়া ২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহত ও আহতদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।