জুলাই আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে: নাহিদ
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
জুলাই আন্দোলনসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী গণআন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর বিএমএ ভবনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জুলাইয়ের রক্তাক্ত জুব্বা: মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের ১৭ ও ১৮ তারিখে আন্দোলন যখন অনেকটা স্তিমিত হয়ে পড়েছিল, তখন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যুগে যুগে ওলামায়ে কেরাম আত্মত্যাগ করেছেন। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বজুড়েই জুব্বা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তাই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদানকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি ও সম্মাননা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে সামনে এনে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি জানানোকে কেউ কেউ ‘জুলাই নিয়ে ব্যবসা’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষ্য, অতীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে গণতন্ত্র ক্ষুণ্ন করা হয়েছে, গুম-খুনের রাজনীতি ও দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। একই ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য এখনো শোনা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল একটি নতুন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন এবং রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের ফলে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক সুবিধা পেয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে তিনি সংবিধান সংস্কার, রাষ্ট্রপতির ভূমিকা এবং নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতাকে শুধু সংবিধানের বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। বরং জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও গণআন্দোলনের চেতনাকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে।
সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার যদি সংবিধান সংশোধন কমিটির মাধ্যমে চলমান প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ওলামায়ে কেরামসহ জুলাই আন্দোলনের সব পক্ষকে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। তবে তিনি জানান, তাদের প্রথম পছন্দ সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান।