হত্যা মামলার আসামিকে ছাত্রদলের সভাপতি পদ, সমালোচনার জেরে বিলুপ্ত কমিটি
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৭ পিএম
হত্যা মামলার এক আসামিকে ছাত্রদলের সভাপতি পদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে কক্সবাজার সদর উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কক্সবাজার জেলা শাখার অধীনস্থ কক্সবাজার সদর উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। শিগগিরই ওই ইউনিটের নতুন কমিটি গঠন করা হবে। এ সিদ্ধান্তে সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির অনুমোদন দেন।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এম. রাশেদুল করিম রাশেদ ও সদস্য সচিব নাজমুল হুদা সাহেদ পিএমখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের ২১ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেন। ওই কমিটিতে সভাপতি করা হয় আলোচিত মোরশেদ বলি হত্যা মামলার আসামি মোহাম্মদ আব্দুল আজিজকে। তিনি এ মামলায় এর আগে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সংগঠনের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে কমিটির সহসভাপতি পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন রবিউল আলম ফাহিম। ২৪ ঘণ্টা না যেতেই বিতর্কের মুখে সদর উপজেলা ছাত্রদলের পুরো কমিটিই বিলুপ্ত করা হয়।
সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের চেরাংঘর বাজার এলাকায় মোরশেদ আলী ওরফে মোরশেদ বলিকে প্রকাশ্যে হাতুড়ি, লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই জাহেদ আলী বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় আব্দুল আজিজসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে আদালতের রিমান্ড শেষে আব্দুল আজিজ জামিনে মুক্ত হন। এছাড়া ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পিএমখালী এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ আটজনকে আটক করা হলে তাদের মধ্যে আজিজের নামও উঠে আসে। অভিযানে বিদেশি পিস্তল, ওয়ানশুট গান, এলজি, ম্যাগাজিন ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
কক্সবাজারে সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ তানু বলেন, ইউনিয়ন কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে সাংগঠনিক নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি। এ কারণেই কেন্দ্রীয়ভাবে উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে সদ্য বিলুপ্ত ঘোষিত সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে আব্দুল আজিজের মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।