কুড়িগ্রাম-৪ আসনে টিকে গেল দাড়িপাল্লা, ভাতিজার দায়ের করা আপিল খারিজ
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের প্রার্থিতার বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল খারিজ করেছে আপিল বিভাগ। এর ফলে তার প্রার্থিতা বৈধভাবে বহাল থাকলো এবং নির্বাচন নিয়ে থাকা সব আইনগত জটিলতার অবসান ঘটল।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানি শেষে এই রায় প্রদান করা হয়। নির্বাচন কমিশনের আপিল বিভাগ সংশ্লিষ্ট আপিল আবেদনটি নামঞ্জুর করে জানায়, প্রার্থীর দাখিল করা হলফনামায় কোনো বড় ধরনের ত্রুটি পাওয়া যায়নি।
আরো পড়ুন: জামায়াত প্রার্থীর নামে তথ্য গোপনের অভিযোগ করলেন ভাতিজা
এর আগে গত ৯ জানুয়ারি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আজিজুর রহমানের বড় ছেলে ডা. মোহাম্মদ আলী জামায়াত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের মনোনয়নপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আপিল দায়ের করেন (সিরিয়াল নং ৫৫৫/২০২৬)। আপিলে অভিযোগ করা হয়, মোস্তাক তার হলফনামায় বিএডিসি-এর একটি সক্রিয় সার ও বীজ ডিলার লাইসেন্সের তথ্য গোপন করেছেন, যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর লঙ্ঘন।
শুনানিকালে জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবীরা অভিযোগের অসারতা তুলে ধরে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন করেন। অপরদিকে, অভিযোগকারী পক্ষ তাদের দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি ও প্রমাণ হাজির করতে ব্যর্থ হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে আপিল বিভাগ অভিযোগটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে রায় দেন।
আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, আদালতের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের প্রার্থিতা নিয়ে আর কোনো আইনি সংশয় রইল না। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।
উল্লেখ্য, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে একই পরিবারের দুই সহোদরের লড়াই ইতোমধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বড় ভাই আজিজুর রহমান বিএনপির প্রার্থী এবং ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক জামায়াতের প্রার্থী। চাচার প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে ভাতিজা ডা. মোহাম্মদ আলীর আপিল স্থানীয় মহলে কৌতূহল সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত তা খারিজ হওয়ায় নির্বাচনী মাঠে মোস্তাকের অবস্থান আরও দৃঢ় হলো।
প্রার্থিতা বহালের খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারীতে জামায়াত কর্মীদের মধ্যে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ভোটারদের মতে, এই আইনি বিজয় নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে আরও জমজমাট করে তুলবে এবং আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন মাত্রা পাবে।