মায়ের মৃত্যুর ৩৬ বছর পর বাবার বিরুদ্ধে হত্যার মামলা করলেন মেয়ে

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:২৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় মায়ের মৃত্যুর ৩৬ বছর পর নিজের বাবার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন মেয়ে শেখ তামান্না আলম। অভিযুক্ত হচ্ছেন খুলনার প্রভাবশালী চিকিৎসক ডা. শেখ বাহারুল আলম বাহার, যিনি এপিসি ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান বিএমএ খুলনার সভাপতি।


খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সোনাডাঙ্গা আমলি আদালতে করা মামলার অভিযোগপত্রে তামান্না জানান, ১৯৮৯ সালের ১৩ নভেম্বর রাত ৪টার দিকে তার মা, তৎকালীন খ্যাতনামা গাইনোকোলজিস্ট ডা. সামসুন্নাহার মিলনের মরদেহ গলায় রশি বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। তখন তার বাবা ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেন।
তামান্নার দাবি, তার বাবার পরকীয়া সম্পর্ক এবং দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণেই মায়ের মৃত্যু হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার মা দুই মেয়েকে নিয়ে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যা ঠেকাতেই বাবা পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটান।
ঘটনার দিন রাতে বাবা-মায়ের মধ্যে তুমুল ঝগড়ার পর ভোরে বাবার ডাকেই তামান্না তার মায়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। পরদিন ময়নাতদন্তে মৃত্যুকে ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ হিসেবে দেখানো হয়।
বহু বছর পর কানাডায় বসবাসরত তামান্না দেশে ফিরে বাবার বিরুদ্ধে নানা অপকর্ম ও হুমকির অভিযোগ পান। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এক পর্যায়ে বাবা তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, “বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোর মায়ের মতো অবস্থা হবে।” এরপরই তিনি নিশ্চিত হন যে তার মা আত্মহত্যা নয়, বরং খুন হয়েছেন।
অভিযুক্ত ডা. বাহার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছিলেন। থানার ওসি নিজে উপস্থিত থেকে মরদেহ নামান এবং তৎকালীন সিভিল সার্জনের উপস্থিতিতে পোস্টমর্টেম হয়। তখন কোনো অভিযোগ ওঠেনি। এত বছর পর মেয়ে হয়তো কারও প্ররোচনায় মামলা করেছে।”
তিনি আরও জানান, “আমার স্ত্রীর একটি সুইসাইড নোট ছিল, যা সিআইডি আদালতে উপস্থাপন করবে।”

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970