চাঁদা না পেয়ে খাবার টেবিলেই কলেজ শিক্ষকদের মারধর ছাত্রদল নেতাদের
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
নোয়াখালী সরকারি কলেজে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের ওপর হামলা, শারীরিক হেনস্তা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসানসহ কয়েকজন এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুপুরে সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাকির হোসেন অফিসসংক্রান্ত কাজের জন্য কলেজে আসেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক এবিএম সানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েলসহ কয়েকজন শিক্ষক একসঙ্গে খাবার খেতে বসেন। ঠিক তখনই একদল ছাত্রদল নেতাকর্মী অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং খাবার টেবিলে গিয়ে শিক্ষকদের গালিগালাজ ও হুমকি দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানকে মারধর করে টেনে-হিঁচড়ে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এছাড়া ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকেও হুমকি দেওয়া হয়। তিনি জানান, অল্প সময়ের মধ্যে তাদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পরপরই কলেজ শিক্ষক পরিষদ জরুরি সভা করে। সভায় অভিযুক্তদের ছাত্রত্ব বাতিলের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো, থানায় মামলা করা এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অধ্যাপক জাকির হোসেন জানান, তারা খাবার শুরু করার আগেই হামলাকারীরা ঢুকে ভাঙচুর চালায়, প্লেট-বাটি ছুড়ে ফেলে এবং বারান্দার বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট করে। প্রতিবাদ করতে গেলে এক শিক্ষককে মারধর করে তার জামা ছিঁড়ে ফেলা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, মূলত শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে। নিয়মিত চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল, তা না দেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে শিক্ষকরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে দায়িত্ব পালন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তাদের জানা আছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা চাইলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।