কক্সবাজারে বৃষ্টির তাণ্ডব, পাহাড়ধসে প্রাণ গেল ৯ জনের
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
টানা ভারী বর্ষণের কারণে কক্সবাজারে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন।
সর্বশেষ মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ের একটি অংশ ধসে স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবরের (৫০) বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে তিনি ও পরিবারের আরও তিন সদস্য আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আলী আকবরকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, শহরের পাহাড়ধসের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একই পরিবারের আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হাশেম বলেন, বিকট শব্দে পাহাড়ের একটি অংশ ঘরের ওপর ধসে পড়ে। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজ চালিয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠালেও একজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে উখিয়ার ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাত ৩টার দিকে পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন—উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩)।
এর আগে রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্বেচ্ছাসেবকেরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
এ ছাড়া রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে পাহাড়ধসে মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, রাতভর উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নিয়মিত মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, আগামী আরও দুই দিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।