ফিফা সভাপতি-রেফারির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় নোয়াখালীর যুবক
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও মিসরের ম্যাচে রেফারিং নিয়ে বিতর্কের জেরে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং ম্যাচ রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর সুধারাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক তরুণ। একই সঙ্গে তিনি ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের মান্দারতলী গ্রামের বাসিন্দা মো. সিরাজের ছেলে রাকিব (২২) থানায় গিয়ে অভিযোগটি জমা দেন। অভিযোগে ফিফা সভাপতি ও ম্যাচ রেফারির পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে রাকিব দাবি করেন, আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এক পক্ষকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এতে কোটি কোটি ফুটবল সমর্থকের আবেগের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
নিজেকে একজন সাধারণ ও আইন মেনে চলা ফুটবলপ্রেমী হিসেবে উল্লেখ করে রাকিব অভিযোগে জানান, গত ৭ জুলাই রাতে স্থানীয় করমুল্যা বাজারে বড় পর্দায় তিনি ও এলাকার অন্য দর্শকরা ম্যাচটি উপভোগ করছিলেন। তার দাবি, ম্যাচের শুরু থেকেই রেফারি পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নিতে থাকেন।
অভিযোগে বলা হয়, ম্যাচের ১৪তম মিনিটে মিসর গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পর রেফারি আর্জেন্টিনাকে বিতর্কিত পেনাল্টি দেন। এছাড়া মিসরের আরেকটি বৈধ গোল প্রথমে স্বীকৃতি দিলেও পরে রহস্যজনকভাবে বাতিল করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাকিব আরও দাবি করেন, ম্যাচের শেষদিকে মিসরের খেলোয়াড়দের একের পর এক হলুদ কার্ড এবং দলের প্রধান কোচকে লাল কার্ড দেখিয়ে অন্যায্যভাবে চাপে ফেলা হয়। এতে দলের মনোবল ভেঙে পড়ে এবং আর্জেন্টিনার জয় সহজ হয়ে যায় বলে তার অভিযোগ।
তিনি বলেন, এই ঘটনাগুলোর কারণে তিনি নিজে এবং বিশ্বজুড়ে থাকা মিসরের সমর্থকরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই ফিফার কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় এবং অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
রাকিব জানান, পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ না করায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করবেন।
এ বিষয়ে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, ওই তরুণ অভিযোগ নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তবে এ ধরনের অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণের সুযোগ না থাকায় বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পর তিনি অভিযোগপত্র নিয়ে ফিরে যান।
উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই আটলান্টায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিসর। তবে শেষ ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে টানা তিন গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠেই অসন্তোষ প্রকাশ করে মিসর দল। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান কোচ হোসাম হাসান রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরে মিসর ফুটবলের প্রধান আবো রিদাও রেফারিংয়ের তদন্ত দাবি করে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেন।