বাংলাদেশের পোশাকের ব্যবসা দখলের চেষ্টায় ভারত

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপের বাজারে শুল্ক সুবিধা পেতে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের পোশাক খাতে প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারে। এই চুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপে ভারতীয় পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি দ্রুত বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রায় দুই দশকের আলোচনা শেষে গত মঙ্গলবার ইইউ–ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। চুক্তি কার্যকর হতে হলে ইইউর কাউন্সিল, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ভারতের সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন, যা ২০২৭ সালে সম্ভাব্যভাবে কার্যকর হবে। চুক্তির আওতায় ২৭টি ইইউ দেশের বাজারে অধিকাংশ ভারতীয় পণ্য বিশেষ শুল্ক সুবিধা পাবে।

চুক্তি অনুসারে ইউরোপে ভারতীয় পোশাকের ওপর বিদ্যমান প্রায় ১২ শতাংশ শুল্ক শূন্যে নামবে। পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, সামুদ্রিক পণ্য, হস্তশিল্প ও গয়নার মতো পণ্যের ক্ষেত্রেও শুল্ক কমানো বা বিনা শুল্কে প্রবেশাধিকার মিলবে।

ভারতের গণমাধ্যম জি নিউজ জানিয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির একটি বড় অংশ দখলের লক্ষ্য রাখছে ভারত। ১৯৭৫ সাল থেকে এলডিসি বাণিজ্য সুবিধার কারণে বাংলাদেশ ইইউর দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক সরবরাহকারী। ডেনিম, ট্রাউজার ও টি-শার্টের মতো পণ্যে বাংলাদেশ চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে।

ইইউতে শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় চীনের পরেই অবস্থান করছে বাংলাদেশ। এরপর রয়েছে তুরস্ক, ভারত, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, মরক্কো, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৫০ শতাংশের বেশি যায় ইউরোপীয় দেশগুলোতে, যা প্রায় ১,৯৭১ কোটি ডলার।

ইইউর সঙ্গে চুক্তি সইয়ের পর ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বলেন, ইউরোপে ভারতের টেক্সটাইল রপ্তানি দ্রুত সাত বিলিয়ন ডলার থেকে ৩০–৪০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে। তার ভাষায়, ‘বাংলাদেশ কীভাবে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে ইউরোপে বড় বাজার দখল করেছে—এই প্রশ্ন আমাদের করা হতো।’

তবে বাংলাদেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, তাৎক্ষণিকভাবে বড় ঝুঁকি নেই। বিজিএমইএ পরিচালক ও সুরমা গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, বাংলাদেশ ভারতের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে। উৎপাদন ক্ষমতা, মান ও দর সব দিকেই বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত।

তিনি বলেন, ভারতীয় পণ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ধরন খুব বেশি মিলছে না। বাংলাদেশ মূলত লো ও মিড রেঞ্জের পোশাক রপ্তানি করে। তবে নিট পোশাক খাতে কিছুটা প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, যা ক্রেতাদের দিক থেকে ১০–১২ শতাংশ দাম কমানোর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে খরচ কমানো, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, ঋণের সুদহার কমানো, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং নীতিগত সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন ফয়সাল সামাদ। তিনি মনে করেন, এসব পদক্ষেপ নেওয়া হলে প্রতিযোগিতা মোকাবিলা সম্ভব।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970