কুড়িগ্রাম-২ আসনে ইসলামী আন্দোলনের আওয়ামী ঘনিষ্ঠ প্রার্থী! বাড়ছে ভোটারদের ক্ষোভ
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৮ পিএম
কুড়িগ্রাম-২ আসনে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা নূর বখত'কে দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
নির্বাচনী এলাকা রাজারহাট, ফুলবাড়ি ও কুড়িগ্রাম সদর নিয়ে গঠিত এই আসনের অসংখ্য ভোটারদের অভিযোগ আওয়ামীলীগের অনেক চিহ্নিত ও পলাতক নেতা-কর্মীদের সাথে তিনি আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে যোগাযোগ করছেন নিয়মিত। এমনকি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাফর আলীর রেফারেন্সে তিনি আওয়ামীলীগকে পুনর্বাসনের জন্য মাঠ পর্যায়ের ঘাপটি মেরে থাকা নেতা-কর্মীদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন এমন অভিযোগের গুঞ্জন পুরো নির্বাচনী এলাকা জুড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, নূর বখত বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ১৫ বছরের দুঃশাসনে ছিলেন দলের ঘনিষ্ঠ সহচর। মসজিদ, মাহফিলে চালাতেন আওয়ামী প্রচারণা। যে কোন মিটিং, সমাবেশ ও দলীয় গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে শেখ হাসিনার ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের জন্য দোয়া ও মুনাজাতে ছিল তার ভীষণ মায়াকান্না।
এছাড়াও জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তিনি আওয়ামীলীগের হয়ে ছাত্র-জনতার বিপক্ষে মাঠ দখলে সংগঠনটির গোপন বৈঠকে পরামর্শ দেন।
বিশেষ করে তার পরামর্শে শিবির-ছাত্রদল পেটাতে বিগত ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহমেদ ও সেক্রেটারী সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা ভোর হতেই সশস্ত্র মাঠে নেমে পড়েন। পুলিশ ও ছাত্রলীগের মারমুখি অবস্থানে সেদিন রক্তগঙ্গায় পরিণত হয় কুড়িগ্রাম শাপলা চত্বর ও ঘোষ পাড়া এলাকা। সংঘর্ষ শুরুর আগে সেদিন স্বয়ং জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন নূর বখত।
আওয়ামীলীগের অসংখ্য মিটিং, সমাবেশে তার ছবি ও ভিডিও ক্লিপ এখনো ভেসে বেড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এ ব্যাপারে কথা হলে জেলা ওলামালীগের একজন দায়িত্বশীল নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নূর বখত জেলা ওলামালীগের একজন পরামর্শক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তার ওয়াজ-নসিহত শুনে অনেক মাওলানা ওলামালীগে যোগ দিয়েছেন। মাওলানাদের নানান সুবিধার কথা বুঝিয়ে তিনি ওলামা লীগে যোগ দেওয়ার প্রচারণা চালাতেন। এর বিনিময়ে তিনি দলীয় নানান সুবিধা ভোগ করতেন।
জেলার কয়েকটি শিক্ষক সংগঠনের প্রাপ্ত সূত্র থেকে জানা যায়, তিনি আওয়ামীলীগের শিক্ষক সংগঠন "স্বাধীনতা মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের" দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
গত ৫ নভেম্বর সম্প্রচারিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল (পরীক্ষামূলক সম্প্রচার) স্টার নিউজের একটি নির্বাচনী অনুষ্ঠান যেটি কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় সেখানে জনতার কাতার থেকে একজন সাধারণ ভোটার নূর বখতকে হাতপাখার প্রার্থী করার বিপক্ষে প্রশ্ন তুলে বলেন, আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত নূর বখতকে কেন হাতপাখার প্রার্থী করা হলো আমরা তা জানতে চাই? সেদিন অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে অংশগ্রহনকারী সংগঠনটির জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হাফিজুর রহমান এর কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নূর বখত আওয়ামীলীগের ভোট পাওয়ার আশায় হাতপাখা থেকে নির্বাচন করতে চাইলেও সাধারণ অনেক ভোটার তাকে প্রত্যাখ্যান করছেন। মানুষ এবার আওয়ামীলীগ ও তার দোসরদের কখনোই ভোট দেবেন না। ফলে জামাত ও সমমনা ইসলামী দলগুলোর জোট থেকে নূর বখতকে নমিনেশন দিলে এটা ভুল হবে, তিনি নিশ্চিত পরাজিত হবেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে নূর বখত জানান, তিনি কখনোই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন না। বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারণে দোয়া খায়ের করতে অনুষ্ঠানে যেতেন।