কুড়িগ্রামে আন্দোলন, ভারতীয় গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৬ এএম
কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহির মনোনয়নপত্র বাতিলকে কেন্দ্র করে ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, কুড়িগ্রামে অনুষ্ঠিত একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ কর্মসূচিকে সেখানে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন’ ও ‘হিন্দু কর্মকর্তার প্রতি হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা ঘটনার প্রকৃত চিত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ ব্যারিস্টার সালেহির মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় প্রার্থীপক্ষের উপস্থাপিত কাগজপত্র ও আইনগত ব্যাখ্যা পূর্ণাঙ্গভাবে শোনার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
মনোনয়ন বাতিলের প্রতিবাদে প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে তাৎক্ষণিকভাবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কর্মসূচিতে কোনো ধরনের সহিংসতা, ভাঙচুর কিংবা কারো প্রতি শারীরিক বা মৌখিক হুমকির ঘটনা ঘটেনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শান্তভাবে কর্মসূচি শেষ হয়।
তবে পরে ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-এর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জেলা প্রশাসকের ধর্মীয় পরিচয় সামনে এনে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের সঙ্গে ওই প্রতিবেদন মিলেনি বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি প্রশাসনিক ও আইনগত বিষয়কে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।
ব্যারিস্টার সালেহির সমর্থক খাজা মইনুদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা আইনগত ও গণতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এখানে কোনো ধর্মীয় বিদ্বেষ বা সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রশ্ন নেই বলে তিনি দাবি করেন।
সচেতন মহলের মতে, যথাযথ যাচাই ছাড়া এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতে পারে।