কুড়িগ্রামে ৬ কোটি টাকার সেতু এখন মরণফাঁদ: সংযোগ সড়ক আটকে আছে বিএনপি নেতার বাধায়

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বাওয়াইরগ্রাম এলাকায় প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি আরসিসি গার্ডার সেতু এখন এলাকাবাসীর জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। মূল সেতুর কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ বন্ধ থাকায় পাঁচ মাস ধরে সেতুটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে মই বেয়ে সেতু পার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের।

এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ‘কর্তিমারী জিসি ভায়া বড়াইবাড়ি বিওপি ক্যাম্প’ সড়কে ৬০ দশমিক ০৬ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। জামালপুরের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৫ সালের জুন মাসে সেতুর মূল কাঠামোর কাজ শেষ করে। তবে যাদুরচর ইউনিয়নের গোলাবাড়ি এলাকার বিএনপি নেতা শাহাজাহান মণ্ডল ও তার সহযোগীদের বাধার মুখে সংযোগ সড়কের মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

ঠিকাদার সামসুদ্দিন হায়দার অভিযোগ করেন, নির্মাণকাজ চলাকালে তাকে দফায় দফায় হয়রানি করা হয়েছে। কাজ চালিয়ে নিতে বিএনপি নেতা শাহাজাহান মণ্ডলকে ৪ লাখ টাকা এবং অন্য একজনকে ৩ লাখ টাকা দিতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়া এক সাবেক ইউপি সদস্যকে ঘর তুলে দিতে হয় এবং কাজ চলাকালীন ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার মালামাল চুরির ঘটনাও ঘটে। বর্তমানে গাইডওয়ালের খুঁটি উপড়ে ফেলে মাটি কাটতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তার।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যাদুরচর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি শাহাজাহান মণ্ডল। তিনি বলেন, “সেতুর জায়গায় আমাদের রেকর্ডভুক্ত প্রায় এক বিঘা জমি চলে গেছে। জমির দাম না দিলে মাটি ফেলতে দেব না।” টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি ৩০ লাখ টাকা নিয়েছি, তাতে কার কী?”

সরেজমিনে দেখা যায়, সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা কাঠের সিঁড়ি বা মই বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে সেতুতে উঠছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। অটোভ্যান চালক নুরুজ্জামান ও বাদশা মিয়া জানান, রাস্তা না থাকায় যাত্রী পরিবহন করতে না পারায় তাদের আয় বন্ধ হওয়ার পথে।

কৃষকদের অভিযোগ, সেতুটি ব্যবহার করতে না পারায় কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে তাদের দ্বিগুণ সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর জানান, স্থানীয় নেতার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি খাল ভরাটের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তিনি এখনো বাধা প্রত্যাহার করছেন না। উপজেলা প্রকৌশলী মুনছুরুল হক বলেন, জনস্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970