জামায়াত কর্মীদের মেরে ‘শোয়াইয়া’ দেওয়ার হুমকি দিলেন তাঁতী দল নেতা, ভিডিও ভাইরাল
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৬ এএম
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের এক নেতার বিরুদ্ধে জামায়াতের নেতাকর্মীদের মারধর ও ‘শোয়াইয়া’ দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে গত বুধবার সন্ধ্যায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত নেতার নাম নওশাদ মোল্লাহ (৩০)। তিনি বাগমারা উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের হাটমাধনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের উপজেলা শাখার নেতা।
অভিযোগের বিষয়ে নওশাদ মোল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নরদাশ এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, “আমি তার বক্তব্য শুনেছি। রাজনৈতিক বক্তব্য সবসময় সহনশীল হওয়া উচিত।” তিনি আরও জানান, নওশাদ মোল্লাহ আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় নরদাশ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাটমাধনগরে ধানের শীষের প্রার্থী ডিএমডি জিয়াউর রহমানের নির্বাচনি ক্যাম্পে এক প্রচারণা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য দেওয়ার সময় নওশাদ মোল্লাহ জামায়াতের স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীকে ইঙ্গিত করে এ ধরনের হুমকিমূলক কথা বলেন।
৩১ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে নওশাদ মোল্লাহকে বলতে শোনা যায়, “নয় নম্বর ওয়ার্ডে উচ্ছৃঙ্খল কিছু জামাত আছে। এ রকম উচ্ছৃঙ্খল জামাত যদি মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করে, তাদের আপনারা যেভাবে পারেন শায়েস্তা করবেন। ভোটের আচরণ না মানলে তাদের শোয়াইয়া দেবেন।”
জামায়াত নেতা আবদুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, “তাঁতী দল নেতার প্রকাশ্য হুমকির কারণে জামায়াতের কর্মী, সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।”
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, “পরবর্তী পদক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিচারিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।”
উল্লেখ্য, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বিএনপির ডিএমডি জিয়াউর রহমান, জামায়াতের ডা. আব্দুল বারী সরদার, জাতীয় পার্টির ফজলুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তাজুল ইসলাম খান।