পটুয়াখালীতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, হাসপাতালে ভাঙচুর

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম

ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর মহিপুরে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে ভাঙচুর চালানো হয়। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, স্বজন ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাময়িকভাবে চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন ঘটে।

গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিয়াম মাহমুদ-এর নেতৃত্বে ১০–১২ জনের একটি দল হাসপাতালে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এ সময় হাসপাতালের গ্লাস, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আকস্মিক হামলায় রোগী ও হাসপাতালের স্টাফরা দিকবিদিক ছুটোছুটি করতে থাকেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় আহত সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম শাওন অভিযোগ করেন, ব্যবসায়িক লেনদেনে দুই হাজার টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে সিয়াম মাহমুদসহ কয়েকজন তার ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তিনি জানান, হামলা থেকে বাঁচতে পাশের হাসপাতালে আশ্রয় নিলে সেখানেও দ্বিতীয় দফা হামলার শিকার হন। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন কাচ ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।

অভিযুক্ত সিয়াম মাহমুদ পাল্টা বক্তব্যে বলেন, নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল ও কামরুল তাদের কয়েকজনকে মারধর করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে হাসপাতালে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

কেয়ার মডেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান বলেন, হঠাৎ ১০–১২ জন যুবক হাসপাতালে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। এতে রোগী ও স্টাফরা মারাত্মকভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের ভেতরে এমন ঘটনা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেন।

মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান পারভেজ বলেন, বিএনপিতে সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান নেই। হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহব্বত খান সংবাদমাধ্যম গণমাধ্যমকে জানান, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970